কদিন আগেই খাগড়াছড়ির মাহিন হকের ৬ ওভারে কোনো রান না দিয়ে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতে তোলপাড় হয়েছিল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাহিনকেও ছাড়িয়ে গেলেন বরগুনার খুদে পেসার রাফিন আহমেদ। ৪ ওভার বল করে ৪টিই মেডেন, আর উইকেট সংখ্যা ৬!
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বরগুনা স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের জেলা পর্যায়ের ম্যাচে এই বিরল ইতিহাস গড়েন বরগুনা জেলা স্কুলের বাঁহাতি এই পেসার।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এই পেসারের বলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কেওড়াবুনিয়া হাইস্কুলের ব্যাটাররা। ম্যাচের শুরু থেকেই আগুনের গোলা ছুড়তে থাকেন রাফিন। একে একে তুলে নেন ৬টি উইকেট। অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, তার ২৪টি বলের একটি থেকেও কোনো রান নিতে পারেনি প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা। রাফিনের এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে আরাফ ও মুসা ইব্রাহিম যথাক্রমে ৩টি ও ১টি উইকেট নিয়ে যোগ্য সঙ্গ দেন।
অতিরিক্ত রানের চেয়েও কম ব্যাটারদের রান
রাফিনের তোপে পড়ে মাত্র ৩২ রানেই গুটিয়ে যায় কেওড়াবুনিয়া হাইস্কুল। তাদের স্কোরবোর্ডের অবস্থা ছিল দেখার মতো—০, ১, ২, ০, ০, ৩, ০, ১, ৭, ০, ০! মজার ব্যাপার হলো, তাদের দেওয়া ৩২ রানের মধ্যে ১৮ রানই এসেছে অতিরিক্ত (ওয়াইড ও নো) থেকে। অর্থাৎ দলটির ১১ জন ব্যাটার মিলে ব্যাট থেকে রান করেছেন মাত্র ১৪!
২ ওভারেই জয়
মাত্র ৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়েই জয় তুলে নেয় বরগুনা জেলা স্কুল। ওপেনার সিয়াম মোল্লা ১০ ও ফারহান ১৩ রানে অপরাজিত থেকে মাত্র ২ ওভারেই খেলা শেষ করে দেন। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৩ রানের মধ্যে ১২ রানই আসে ওয়াইড থেকে।
রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মেলা
এবারের স্কুল ক্রিকেট যেন রেকর্ডের খাতা ওলটপালট করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কদিন আগেই মোহাম্মদ আজিজ এবং সাইফুর রহমানের ডাবল সেঞ্চুরির দেখা মিলেছিল। আর বল হাতে মাহিন হকের ৫ উইকেটের পর এবার রাফিনের ০ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার ঘটনাটি টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে নিয়ে গেল নতুন উচ্চতায়। বিসিবি ও প্রাইম ব্যাংকের এই আসর থেকে প্রতিবছর যে সেরা প্রতিভাগুলো উঠে আসে, রাফিন আহমেদ নিশ্চিতভাবেই সেই তালিকার শীর্ষে নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন।