দেশে ক্রমবর্ধমানহারে বাড়ছে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি। তাই অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তা সচেতনতা তৈরিতে প্যাকেটের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থার প্রচলনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি সতর্কতার আওতায় আনা হচ্ছে। যাতে প্যাকেটের সামনের দিকে বড় একটা অংশজুড়ে লেখা থাকবে স্বাস্থ্য সতর্কতার বার্তা। কোনো পণ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ থাকলে তা লেখা থাকতে হবে।
সাধারণত প্যাকেটপণ্যে অতিরিক্ত মাত্রার চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত থাকে। এ জন্য প্যাকেটের গায়ে সামনের দিকে লিখতে হবে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’ এতে ভোক্তা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম), চিনি বা সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে এবং সে অনুযায়ী তিনি স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন করতে পারেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা-২০২৬ প্রণয়ন করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) : প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় এসব মতামত তুলে ধরেন বক্তারা। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৯ সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি ও অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, যা প্রতিরোধযোগ্য। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, দেশে ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন। তবে প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টি তথ্য অধিকাংশ ভোক্তাই বুঝতে পারেন না। ফলে তারা খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পান না।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে সরকার ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করি দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থরা (ডব্লিউএইচও) প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড, মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।