জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস।
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জাহিদুর রহিম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনের তার লুজ থাকায় অধিবেশনে টেবিল চাপড়ানোর সময় সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট ঘটে। সংস্কার কাজের প্রথম অংশ করেছিল আমানত এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু তাদের কারিগরি অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় শেষ পর্যায়ের কাজটুকু তার প্রতিষ্ঠানকে করতে হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজন অনুসারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গণপূর্ত বিভাগের কাছে চাহিদা দেওয়া নথিপত্র পেতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুদকের অনুসন্ধান কাজ চলমান থাকবে।
দুদকের তথ্যমতে, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) ঘনিষ্ঠজন বা ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের আত্মীয়। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাহিদুর রহিম জোয়ারদার দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলের এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কাজের আড়ালে ওভার ইনভয়েসিং বা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও একই কৌশলে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এর মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর।