কমিশনিং লাইসেন্স পেল রূপপুর শিগগির ফুয়েল লোডিং

অবশেষে কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিট। কেন্দ্রটি চালু করতে লাইসেন্সসংক্রান্ত আর কোন বাঁধা থাকল না। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (্ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। কয়েক দফা সময়সীমা পিছিয়ে এ মাসের ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার কথা ছিল। সেজন্য রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছিল উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে তা আটকে যায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, জ্বালানি লোড করার আগে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিটি ধাপ শেষে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ইস্যু করে থাকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি লোড করার আগে লাইসেন্স নিতে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটির অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এরপরই আপত্তি তোলে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একটি সূত্র জানায়, লাইসেন্স নিতে রাশিয়ান ঠিকাদার এবং প্রকল্পের কর্মকর্তারা নানানভাবে চেষ্টা-তদবির চালান। আপাতত লাইসেন্স নিয়ে জ্বালানি লোড করার পর বাকি কাজ শেষ করবে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল শতভাগ নিরাপত্তা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে আজ (গতকাল)। ইনশাআল্লাহ বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই এখানে।

এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সব কাজ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ। আশা করছি এপ্রিলেই ফুয়েল লোড করা সম্ভব হবে।’

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি লোডিং শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া (চেইন রিঅ্যাকশন) শুরু করতে আরও দুই মাস সময় প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে জ্বালানি লোডিংয়ের পর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে অন্তত ১০ থেকে ১১ মাস সময় লাগে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৬ বছরের প্রকল্প ৯ বছরেও শেষ না হওয়ার ক্ষতি অপূরণীয়। বিলম্বের কারণে বিদ্যুৎ না পেয়েও প্রতিদিন ১০-১২ কোটি টাকা সুদ গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এ ছাড়া সেখানকার কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হচ্ছে নিয়মিত। বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কালও কমছে। কেন্দ্রটি চালু হলে সাশ্রয়ী দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।’