চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না বার্সেলোনা। তাদের দাবি, দুই লেগ মিলিয়েই রেফারির একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তারা সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়েছে। এই অন্যায্য বিদায়ের বিচার চেয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফার কাছে দ্বিতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি।
বার্সেলোনার মতে, রেফারির এই ভুলগুলো কেবল মাঠের ফলাফলই বদলে দেয়নি, বরং ক্লাবের জন্য বড় ধরনের ক্রীড়া ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্সেলোনা তাদের বিবৃতিতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে:
১. লাল কার্ডের বিতর্ক: দুই লেগেই বার্সেলোনার একজন করে খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। প্রথম লেগে পাউ কুবারসি এবং দ্বিতীয় লেগে এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড পান। দুই ক্ষেত্রেই শুরুতে রেফারি হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর মনিটর দেখার পর সিদ্ধান্ত বদলে লাল কার্ড দেখান। বার্সার দাবি, নিয়ম প্রয়োগে ভুল করা হয়েছে।
২. পেনাল্টি না পাওয়া: দ্বিতীয় লেগের রেফারি ইস্তভান কোভাকস এবং ভিএআর রেফারি ক্রিশ্চিয়ান ডিঙ্গার্টের সমালোচনা করেছে ক্লাবটি। আতলেতিকোর ডিফেন্ডার মার্ক পাবিল নিজের ডি-বক্সের ভেতর বল হাতে লাগানো সত্ত্বেও পেনাল্টি না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।
৩. উয়েফার আগের প্রতিক্রিয়া: প্রথম লেগের পর বার্সার করা অভিযোগকে উয়েফা অগ্রহণযোগ্য বলে নাকচ করে দিয়েছিল। তবে ক্লাবটি হাল না ছেড়ে এবার আরও জোরালো ভাষায় দ্বিতীয় নালিশ জানাল।
ইনজুরির কারণে দুই ম্যাচের একটিতেও মাঠে নামতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা। তবে গ্যালারি থেকে ম্যাচ দেখে নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে রাখেননি তিনি। ম্যাচ শেষে তিনি সরাসরি বলেন, আমার কাছে এই ম্যাচটি স্রেফ ডাকাতি ছিল। শুধু এই ম্যাচ নয়, প্রথম লেগটিতেও আমাদের সাথে একই কাজ করা হয়েছে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, রেফারির ভুলগুলো ফুটবল আইনের সঠিক প্রয়োগের পরিপন্থী ছিল। তারা বলছে, ভুলের এই পাহাড় সরাসরি ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে এবং ক্লাবের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। আমরা উয়েফার সাথে একযোগে কাজ করতে চাই যাতে ভবিষ্যতে রেফারিং ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং ন্যায্য হয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ায় বড় অংকের প্রাইজমানি এবং টিভি স্বত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বার্সেলোনা। এখন দেখার বিষয়, উয়েফা এই দ্বিতীয় অভিযোগটি আমলে নেয় কি না, নাকি আবারও তা খারিজ হয়ে যায়।
রেফারির ভুল নিয়ে বার্সেলোনার এই অভিযোগ কি যুক্তিসঙ্গত মনে হয়, নাকি চাপের মুখে হার মেনে নিতে না পারার অজুহাত এটি?