দারিদ্র্যের বাধায় থমকে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার রাফির স্বপ্ন

পরিবারের সামর্থ্য ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে থমকে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামের এক উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ। রংপুর বিভাগীয় দলসহ ঢাকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে সাফল্য অর্জন করেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে ফিকে হয়ে আসছে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন।

কুড়িগ্রামের উলিপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার গ্রামের রায়হান কবির ও জোসনা পারভীন দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় রাফাত আল রাফি। ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী এই তরুণ ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগীয় ক্রিকেটে জেলা দলের অধিনায়ক হিসেবে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন। তার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে রংপুর বিভাগীয় দলে খেলার সুযোগ পান তিনি।

পরবর্তীতে ওয়াইসিএল ইস্ট জোনেও সুযোগ মেলে তার। অল্প বয়সেই ঢাকার তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে রাইজিং স্টার ক্লাবের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে মিরপুর বয়েজ ক্লাবের হয়ে ৩৫০ রানসহ তিনটি হাফ সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব রয়েছে তার ঝুলিতে।

স্বপ্ন বড়-একদিন জাতীয় দলে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সংকট। উন্নত প্রশিক্ষণ বা ভালো কোনও একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার সামর্থ্য না থাকায় প্রতিদিন কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে নিজ উদ্যোগেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাফি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ব্যাট হাতে নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি।

রাফাত আল রাফি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। জাতীয় দলে খেলতে চাই। কিন্তু ভালো কোচিংয়ের সুযোগ পাচ্ছি না। যদি কোনোভাবে সহায়তা পেতাম, তাহলে আরও ভালোভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারতাম।

তার বর্তমান কোচ নাজমুল হুদা লাকু বলেন, রাফি খুবই প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটার। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে সে অনেক দূর যেতে পারবে। আমরা চাই, তাকে কোনও ভালো একাডেমিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।

রাফির বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রায়হান কবির বলেন, ছেলের স্বপ্ন অনেক বড়। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আরেক ছেলে মেডিকেলে পড়ছে, তার খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে রাফির স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যারা সুযোগের অভাবে হারিয়ে যায়। রাফির মতো খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।