ফেনীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড় করিয়ে ভিআইপি প্রটোকল গ্রহণ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তাকে বরণ করতে সাদা কাপড়ে তৈরি আকর্ষণীয় তোরণ, ফুল ছিটানো, গার্ড অব অনার এবং লাল ফিতা নাড়িয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তবে সাধারণত গার্ড অব অনার রাষ্ট্রপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেওয়া হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরনের সংবর্ধনা দেওয়ায় জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেমন সমালোচনার মুখে পড়েছে, তেমনি এ ধরনের সংবর্ধনা গ্রহণ করায় বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রশাসক এম এ খালেকও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ধরনের প্রটোকল গ্রহণ করেন না, সেখানে একজন জেলা পরিষদের প্রশাসকের এটি গ্রহণ করা উচিত হয়নি।
আরেকজন মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক নেতাদের জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কয়েক ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে শিক্ষার্থীদের, যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব আগমন করেছেন।
সমালোচনায় শিক্ষকদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনেকে এটিকে ‘পুরনো সংস্কৃতির নতুন রূপ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে এম এ খালেক বলেন, ‘আমি এ ধরনের আয়োজন উৎসাহিত করিনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেরা করেছে। অনেক সময় আবেগের কারণে এসব আয়োজন হয়, বাধা দিয়েও থামানো যায় না। প্রধানমন্ত্রীকেও এ ধরনের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী মোহাম্মদ সিরাজ অসুস্থ থাকায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র কুমার নাথ।
তিনি জানান, ধারাবাহিকতা অনুযায়ী এ আয়োজন করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যেমন খুশি তেমন সাজোসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি বিকাল ৪টার পর অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং মাগরিবের আজানের আগ মুহূর্তে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, পুরো আয়োজনের জন্য বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৬০ জন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে ৬২ জন। গত বছর ৫২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল।