মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদী বাজারের ৬টি স্বর্ণের দোকানসহ ৮টি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী সংঘবদ্ধ ডাকাতদল স্বর্ণের গহনা, রুপা ও নগদ অর্থসহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান ব্যবসায়ীরা। ভোররাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল বাজারে প্রবেশ করে প্রথমেই পাহারাদারকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এর পর তারা একে একে স্বর্ণের দোকানগুলো টার্গেট করে লুটপাট করতে থেকে।
ডাকাতরা প্রথমে নিউ প্রিয়াঙ্কা জুয়েলার্সে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে। পরে পাশের আরও পাঁচটি স্বর্ণের দোকানে ঢুকে সিন্দুক ভেঙে স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা দোকানের সিন্দুক পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এ সময় পাশের একটি দোকানে থাকা মিলন মোল্লা নামে এক রাজমিস্ত্রি ঘটনাটি টের পেয়ে বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং হাত-পা বেঁধে ফেলে। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ডাকাতদল চলে যাওয়ার সময় পাশের একটি মুদি দোকান ও একটি কসমেটিকস দোকানেও লুটপাট চালায়। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্যমতে, গৌতম মালোর শ্রী শ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৫৫ ভরি রুপা, বিদ্যুৎ মন্ডলের নিউ নারান জুয়েলার্স থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল, সেন্টু মালোর ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ৫০০ ভরি রুপা ও ১ লাখ টাকা নগদ লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিমল মালোর নিউ প্রিয়াঙ্কা জুয়েলার্স থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ, প্রায় ১ কেজি রুপা ও ৯৫ হাজার টাকা নগদ, স্বদেব মন্ডলের নিউ কনিকা জুয়েলার্স থেকে ১ ভরি স্বর্ণ, ৭০ ভরি রুপা ও ৪০ হাজার টাকা নগদ এবং ভরত মালোর মা লক্ষ্মী গহনালয় থেকেও রুপা লুট করা হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাবে ডাকাতরা প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ভরি রুপা এবং নগদ কয়েক লাখ টাকা লুট করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জিয়া হাওলাদারের ‘জিয়া স্টোর’ নামের মুদি দোকান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার সিগারেট ও ৫০ হাজার টাকা নগদ লুট করা হয়। পাশের একটি কসমেটিকস দোকানেও একইভাবে তান্ডব চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার ও রাতের পাহারা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সদিপ মন্ডল বলেন, ‘আমার জীবনের সব সম্বল দিয়ে দোকানটি দাঁড় করিয়েছি। এখানে অন্যের বন্ধক রাখা স্বর্ণও ছিল। এখন কীভাবে সেগুলো ফেরত দেব। আমি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হাউসদী বাজারে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা টিমসহ একাধিক টিম কাজ করছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’