১৬ ঘণ্টা অন্ধকারে মতলব

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় এলাকাবাসীকে। বাকি সময়েও ক্ষণিকের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, দিন-রাতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা টানা বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যÑ সবখানেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আল আমিন বলেন, আমি নিজেও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক। গত এক মাস ধরে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ থাকেই না, সন্ধ্যার পরও ক্ষণিকের জন্য এসে আবার চলে যায়। শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমার এলাকায়। অভিভাবকরা সমাধানের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন, কিন্তু আমাদের হাতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কোনো উপায় নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনে বা ট্রান্সফরমারে সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয় না। কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায় না।

উপজেলার  সুজাতপুর  এলাকার বাসিন্দা শামীম হোসেন  বলেন, আগে বিদ্যুতের সেবা মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। কয়েক দিন ধরে টানা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাস্তবে দিনে ১৬ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার বলে, ২১ এপ্রিল থেকে আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু। কিন্তু গত দুই মাস ধরে বিদ্যুতের সমস্যা এতটাই বেশি যে সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুতের এ সমস্যার কথা স্বীকার করে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, মতলব উত্তর উপজেলায় চাহিদার তুলনায় গ্রিড থেকে কম  বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাই বর্তমানে গড়ে ৪০-৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ৫৫-৬০ শতাংশ সময় লোডশেডিংয়েই থাকতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিকল্প উপায় নেই।