ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুইদিন পর ১৭ এপ্রিল দুপুরে ছয় বছরের নিশাতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইর পুলিশ সুপার সচীন চাকমা শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে ঘটনা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে ইসহাক মিয়াকে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে এসময় ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়টি জানাতে পারে এলাকাবাসী। এসময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ও ইসহাকের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগানে পরিস্থিতি উত্তোপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ইসহাকের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
হত্যার শিকার নিশাত জাহান সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার তার লাশ দাফন করা হয়।
নিহতের পরিবার জানায়ে, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে নিশাত চিপস কেনার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় সদর থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় একজন বাড়ির দূরে একটি বস্তার ভেতর লাশ দেখতে পান। বিষয়টি নিশাতের পরিবারকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে নিশাতের পরিহিত কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক হত্যার দায় স্বীকার করে। ঘটনার দিন দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে নিশাতের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে সে ঘুরানোর কথা বলে নিশাতকে নিয়ে রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যায়। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই দিন বাড়িতে ইসহাক একাই ছিলেন। ইসহাকের উদ্দেশ্য ছিল নিশাতের সঙ্গে শারিরিক সম্পর্ক করবে। এক পর্যায়ে নিশাতের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিলে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বলে দেবে বলে জানায়। এতে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইসহাক তার গেঞ্জি দিয়ে নিশাতের মুখ চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সে লাশ বস্তায় ভরে ঘরেই রাখে। একদিন পর লাশ এনে বাইরে ফেলে রেখে যায়।