শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন মোকাবেলায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত ইরানের সেনাবাহিনী। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, প্রতিটি সেনার আঙুল এখন অস্ত্রের ট্রিগারে রয়েছে। শত্রুর মোকাবেলা এবং মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে তাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা নেই। রবিবার (১৯এপ্রিল) এক বিবৃতিতে আমির হাতামি এ ঘোষণা দেন। মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের সামরিক শক্তি ও জাতীয় সংকল্পের জানান দিতেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আমির হাতামি জানান, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখা শত্রুর যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়ার জন্য সর্বদা সজাগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও উন্নত ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ইরানি সেনারা উৎসর্গের মানসিকতা এবং জিহাদি চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবিচল রয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে ইরানকে শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, তারা কোনো যুদ্ধ চান না এবং তাদের বর্তমান পদক্ষেপগুলো নিছক আত্মরক্ষার খাতিরে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই কোনো রাষ্ট্রকে আক্রমণ করেনি এবং বর্তমানেও কাউকে আক্রমণ করার কোনো অভিপ্রায় তাদের নেই। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ আত্মরক্ষা মাত্র। তার মতে, যেকোনো সাধারণ মানুষ যেভাবে আগ্রাসনের শিকার হলে রুখে দাঁড়ায়, ইরান একটি রাষ্ট্র হিসেবে ঠিক সেভাবেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেন। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি দেশ দুটির কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি একে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের ‘দ্বিমুখী নীতি’র প্রমাণ হিসেবেও অভিহিত করেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তির প্রতি ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্ববাসীকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে ইরানকে যুদ্ধকামী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল। বরং তারা কেবল তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।