সিইউএফএল-কাফকোর পর বন্ধ হয়ে গেল ডিএপি সার কারখানা

অ্যামোনিয়া সংকটে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গত শনিবার রাতে কারখানাটির মজুদকৃত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও বহুজাতিক কোম্পানির সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এতে কারখানা দুটির ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ডিএপি সার কারখানাটি এই দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর অ্যামোনিয়া সরবরাহের জন্য নির্ভরশীল ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আলমগীর জলিল বলেন, মজুদকৃত অ্যামোনিয়া দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে মজুদ অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে সরবরাহ না আসায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এদিকে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকো সার কারখানায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ডিএপি কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ফুরিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল হক বলেন, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। এখন তাও শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে। তবে বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা ৬০০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।