কুয়েতের পুলিশ ধরে পাঠিয়ে দেয় দেশে, বিমানবন্দরে নেমেই মৃত্যু

২০২৫ সালের আগস্টে জীবিকার সন্ধানে সংসারের উন্নতির জন্য গিয়েছিলেন আরব দেশ কুয়েতে। বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে সে দেশের পুলিশ আটক করে জেলে পাঠিয়ে দেয় নুরুল ইসলাম সাগরকে (৩৫)। ১৫ দিন কারাভোগের পর কুয়েত পুলিশ গতকাল শনিবার বাংলাদেশগামী একটি বিমানে তুলে দেয়। রাত ১টার দিকে নুরুল ইসলাম সাগর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তার প্রচ- বুকে ব্যথা ওঠে। বিমানবন্দরের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি মারা যান। নিহত সাগর ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

তার স্ত্রীর নাম বিবি খাদিজা, তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের নাম নুসাইবা ইসলাম, ছেলের নাম তানজিম রিহান, তার বয়স ৯ মাস।

নিহত সাগরের ছোট বোন শেফালী আক্তার আরজু বলেন, আমার ভাই মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে হার্ট অ্যাটাক করেছেন। বাড়িতে এলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে হার্ট অ্যাটাক করেন। শেফালী আক্তার আরও বলেন, আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ, তার শরীরে কোনো রোগ ছিল না। মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন।

জানা যায়, রবিবার সাড়ে ৩টার দিকে নামাজের জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরশুরাম থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কুয়েত থেকে আসা একটি বিমান থেকে রাতে নামার পর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করে পড়ে যান। বিমানবন্দরে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে তিনি মারা যান। তার সঙ্গে থাকা পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী তার মৃত্যুর বিষয়টি পরশুরাম থানাকে অবহিত করলে পুলিশ রাতেই তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়।