লৌহজংয়ে খালসহ কৃষি জমি ভরাটের অভিযোগ

‘প্রশাসনের সঙ্গে ঝামেলায় কাজ বন্ধ, ম্যানেজ করে ফের কাজ ধরবো’

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সরকারি খাল দখলসহ ৪ একর কৃষি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। বাণিজ্যিকভাবে কৃষি জমি ভরাট করে বসতির জন্য প্লট নির্মাণ করে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নূর ফাতিমা জামে মসজিদের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এলাকাবাসীর চোখে ধুলো দিয়ে প্রতারণ করায় ক্ষুব্ধ ওই এলাকার কৃষক, মুসল্লীসহ গ্রামবাসীরা।

বেশ কয়েক দিন থেকে উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে জমি ভরাটের এই ঘটনায় পার্শ্ববর্তী টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের কবির হোসেন তালুকদার ও বালিগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের  শিক্ষক মোহাম্মদ নেছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।

১৮ এপ্রিল ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, নূর ফাতিমা জামে মসজিদ নামক একটি মসজিদের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সাইনবোর্ডে মসজিদের নাম থাকলেও কাগজ কলমে কোনো মসজিদের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। ধর্মকে ব্যবসার কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে ভেক্যু দিয়ে পকেট ভারি করছে। সেই সঙ্গে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রজেক্টের দৃশ্যমান সাইট টিনের বেড়ায় জায়গাটি ঘোরাও দিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে সড়ক দিয়ে কেউ গেলে অবৈধ প্রজেক্টের দৃশ্য দেখতে না পায়।

সরকারি খালের বেশ ‍কিছু অংশ দখল সম্পূর্ণ। ছবি: প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত বছর কৃষি জমি আবাদের নামে হারুন তালুকদার, ইলিয়াস তালুকদার, সাফাজ উদ্দিন তালুকদার, শফি সারেং গং থেকে এসব কৃষি জমিগুলো ক্রয় করে নেওয়া হয়। তবে এর কয়েকমাস পর থেকে শুরু হয় শ্রেণি পরিবর্তনের তোড়জোড়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ চক্রটি দিনরাত কাজ করে আসছে।

এলাকাবাসী, মুসল্লী ও কৃষকরা অভিযোহের সুরে বলেন, আমাদের গ্রামে এভাবে কৃষি জমিগুলো বিনষ্ট করা হচ্ছে। মসজিদের নাম বিক্রি করে এ কাজ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনকে টাকা দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কেননা এসিল্যান্ড এসে ঘুরে চলে যায় ড্রেজার, ভেক্যু জব্দ করছে না। সেই সঙ্গে খাল দখল করে টিন দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদও করছে না। এর সঙ্গে প্রশাসনও জড়িত রয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ।

ড্রেজার মালিক শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি পুরো জমি ভরাটের জন্য কন্ট্রাক্ট নিয়েছি নেছার উদ্দিন ও কবির হোসেনের কাছ থেকে। এ ছাড়া আমি কিছু জানি না। আমাকে টাকা দেয় আমি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে পকেট করা জমিতে বালু ফেলে দেই।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. নেছার উদ্দীন বলেন, আমাকে একদিন কবির ভাই ওই জমিতে নিয়ে যায় তবে আমি এ জমির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। কথপকথনে এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে মোবাইল ফোনে নয় সরাসরি দেখা ও কথা বলার জন্য প্রস্তাব দেন তড়িঘড়ি করে ফোনটি রেখে দেন অভিযুক্ত নেছার উদ্দিন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত কবির হোসেন বলেন, কৃষি জমি ভরাট নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একটু ঝামেলা চলতেছে। তবে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করছি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও কাজ ধরবো।

লৌহজংয়ে সরকারি খালসহ ৪ একর কৃষি জমি ভরাটের অভিযোগ। ছবি: প্রতিনিধি

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা জানান, এ উপজেলাটি নদী তীরবর্তী হওয়ায় নদী ভাঙন, খাল দখল, জলাবদ্ধতা ও কৃষি জমি ভরাটের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বছর শুধুমাত্র কৃষিখাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়ে আসছে। যা দেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিসাধন। তাই দ্রুত উচিৎ খাল খনন করা ও কৃষি জমিগুলো যেনো শ্রেণি পরিবর্তন না করতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু জানান, এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি তখন সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে জানালে কাজ বন্ধ করা হয়। এরপর পুনরায় কাজ চালু করেছে কিনা এটি জানা নেই। তবে এখন যেহেতু আবারও অভিযোগ পেলাম আমরা উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে যাবো, সেখানে গিয়ে এর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।