কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীতে সামুদ্রিক লবণ পানি ঢুকে পড়ায় বোরো ধান ও সবজি চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বাঘগুজারা পয়েন্টে স্থাপিত রাবার ড্যাম উপচে কয়েক দিন ধরে নদীর উজানে লবণ পানি প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে মিঠাপানি নির্ভর সেচব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
কোনাখালী ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন চৌধুরী বলেন, জমিতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকেরা প্রথমে নদীর পানিতে লবণাক্ততার বিষয়টি টের পান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) কয়েকজন কৃষক তাকে বিষয়টি জানান। রবিবার সকালেও আরও দু-একজন কৃষক একই অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমের বোরো ধান এখনো অনেক জমিতে পুরোপুরি পরিপক্ক হয় নি। বেশির ভাগ ক্ষেতে ধানে দানা আসার পর্যায় চলছে। ধান কাটতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। একই সময়ে সবজি ক্ষেতেও নিয়মিত সেচের প্রয়োজন রয়েছে। এই অবস্থায় নদীর মিঠাপানির প্রবাহে বিঘ্ন ঘটলে ফসলের ক্ষতি অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ( হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলামের বরাতে জানা গেছে, এ মৌসুমে চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৭ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ এলাকায় ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো অনেক জমিতে সেচ দেওয়া অপরিহার্য।
তিনি আরও জানান, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির প্রবাহ সংরক্ষণে বাঘগুজারা ও পালাকাটা পয়েন্টে দুটি রাবার ড্যাম স্থাপন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সাধারণত নভেম্বর মাসে ড্যাম ফোলানো হয় এবং চাষাবাদ শেষ হলে মার্চের শেষ দিকে বা এপ্রিলের শুরুতে তা নামিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ বছর কিছু এলাকায় চাষাবাদ অব্যাহত থাকায় এখনো ড্যাম নামানো হয়নি।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ড্যাম নামানো না থাকায় উপচে পড়া পানির সঙ্গে লবণ পানি ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, নদীতে লবণ পানি প্রবেশ করলে চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ফসল ঘরে তোলার প্রাক্কালে যদি সেচ সংকট দেখা দেয়, তবে পুরো মৌসুমের শ্রম বিফলে যেতে পারে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নদীর মিঠাপানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।