ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দখল-ভরাট হয়ে নিশ্চিহ্নের পথে ২০০ বছরের পুরনো দিঘা বিলের সংযোগ খাল। খালটি উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের হাড়িশ্বর গ্রামের একটি বন্ধ (মাঠ) থেকে শুরু হয়ে পার্শ্ববর্তী হারুয়া, দরগাপাড়া-তুলিয়াটি ও মালিয়াটি গ্রামের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে টাংগনগাতি গ্রামের দিঘা বিলে গিয়ে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি দখল-দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে আশপাশের গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কয়েক গ্রামের শতাধিক একর কৃষিজমি, শত শত পানের বরজ নষ্ট হচ্ছে। ফসলি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিপাকে রয়েছেন কৃষকেরা। তারা দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে খাল খননের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে টাংগনগাতি গ্রামে দিঘা বিলের সংযোগস্থলের কাছাকাছি সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া খাল দখল ও ভরাটের মাধ্যমে পাড় উঁচু করে একটি পুকুর খনন করেছেন। এতে দিঘা বিলের সংযোগস্থল থেকে খালটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের ফসলি জমি ও পানের বরজ নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
টাংগনগাতি গ্রামের আবুল কালাম (৮০) বলেন, ‘৪০ বছর আগেও এই খাল দিয়ে আমরা নৌকা চালিয়ে
কৃষিপণ্য নিয়ে যেতাম। তখন ২৪ থেকে ২৫ ফুট প্রশস্ত ছিল খালটি। খালে নৌকা পেতে বসে পাটের আঁশ ছাড়াতাম। কিন্তু এখন খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, দখল ও মাটি ভরাটের কারণে টাংগনগাতি-দরগাপাড়া, তুলিয়াটি ও মালিয়াটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শত শত একর ফসলি জমি পানিবন্দি থাকে। এ কারণে এসব জমিতে কোনো চাষাবাদ হয় না।’
টাংগনগাতি গ্রামের উজ্জল মিয়া, শফিকুল ভূঁইয়া, হেলিম ভূঁইয়া ও হেলাল উদ্দিন বলেন, খালের মুখে বাঁধ দেওয়ায় পানি উঠে আমাদের পানের বরজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিবারেই আমাদের অনেক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
একই গ্রামের লাল মিয়া, নজরুল ইসলাম ও আবুল মুনসুর বলেন, আশপাশের পাঁচ গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান হলো দিঘা বিল। এসব গ্রামের বন্দের পানি যায় এই খাল দিয়ে। মুরব্বিরা বলেছে, এই খালটি ২০০ বছরের পুরনো। সিএস জরিপের মধ্যে খালের নকশাও আছে। কিছু লোক খাল দখল ও ভরাট করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। বর্ষাকালে টাংগনগাতি গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ওঠে। ফসলি জমি নষ্ট হয়। আমরা দিঘা বিলের সংযোগস্থলে খাল দখল করে খনন করা পুকুর উচ্ছেদ করে বিলের সঙ্গে খালকে প্রবাহিত উপযোগী চাই। অবিলম্বে খালটি খননের দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়ার ছেলে মাসুদ বলেন, খাল আগে থেকে ভরাট ছিল। যদি খাল খনন করে তাহলে আমরা পুকুরের পাড় সরিয়ে নেব। আমরাও চাই খালটি খনন করা হোক।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’