ক্রীড়াবিদদের মাসিক ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপে রবিবার ১৭১ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া কার্ড। রবিবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ক্রীড়া ভাতা ও কার্ড তুলে দেন মনোনীতদের হাতে। সেদিন কার্ড বিরতণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। সোমবার সকালে আমিনুলের বাসায় গিয়ে কার্ড সংগ্রহ করেন জামাল। ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড হাতে নিয়ে আমিনুলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলাদেশ অধিনায়ক, ক্রীড়া কার্ডকে ‘আমিনুল কার্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অতীতে কোনো মন্ত্রী এমন উদ্যোগ নেননি বলেই কার্ডের এই নাম দেন জামাল।
২০১৩ সালে ডেনমার্ক থেকে এসে বাংলাদেশের হয়ে খেলা শুরু করেন জামাল। এক যুগের বেশি সময় ধরে খেলছেন, তাই এখন আর তাকে হামজা, সমিতদের মতো প্রবাসী নামে ডাকা হয় না। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশেই ঘরোয়া ফুটবল খেলছেন। তাই হামজারা ক্রীড়া ভাতা ও কার্ড না পেলেও জামাল পেয়েছেন। ক্রীড়া কার্ডকে আমিনুল কার্ড বলার ব্যাখ্যাটা জামাল দিয়েছেন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে, ‘এটিকে সবাই ক্রীড়া কার্ড বলছে। আমি বলব, এটা আমিনুল কার্ড। কারণ আগে কখনো কেউ খেলোয়াড়দের জন্য এভাবে ভাবেনি, করেওনি। আমিনুল ভেবেছে ও সব খেলোয়াড়ের জন্য করেছে।’
চীনের সানিয়াত শহরে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান বিচ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমিনুলের গতকাল দেশ ছাড়ার কথা। তাই সকালে নিজ বাসভবনে জামালকে ডেকে কার্ড তুলে। দেন সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। বর্তমানে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন। তবে শুরুটা জামালকে দিয়ে হয়েছিল। তাই জামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন আমিনুল, ‘বাংলাদেশের ফুটবল দলে এখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং খেলছেও। এটা প্রথম শুরু করেছিল জামাল। তাকে দেখে অনেকে এসেছে।’
জামালের নেতৃত্বে আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশকে সাফ জিততে দেখতে চান আমিনুল। ২০০৩ সালে ঢাকাতেই প্রথম ও একবারের জন্য সাফ জিতেছে বাংলাদেশ। সেই দলের সদস্য ছিলেন আমিনুল। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর তাই তিনি খুব করে চাইছেন শিরোপার অপেক্ষা এবার ঘুচে যাক, ‘সেপ্টেম্বরে সাফ আয়োজনে সরকারের সহযোগিতা করবে। ২০০৩ সালের পর আবার বাংলাদেশের শিরোপা উল্লাস দেখার প্রত্যাশা করছি।’