দুই পুরুষ কুস্তিগিরের কোচ সেই শিরিন সুলতানা!

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৩ এএম

একসময় ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা কুস্তিগির। ঘরোয়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত অংশ না নিলেও বিদেশ সফর তার মিস হতো না। খেলা ছেড়ে এখন তিনি কুস্তির কর্মকর্তা। গত বছর সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে পুরুষ ও নারী দুই দলের কোচের দায়িত্বেও ছিলেন শিরিন সুলতানা। এরপর নানা নেতিবাচক ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। সেই শিরিন সুলতানাকেই এবার এশিয়ান গেমসে দুই পুরুষ কুস্তিগিরের কোচ হিসেবে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ কুস্তি ফেডারেশন। অথচ পুরুষ কুস্তিগিরদের সঙ্গে সাধারণত একজন পুরুষ কোচ কিংবা ম্যানেজার থাকার কথা। ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

এশিয়ান গেমসের জন্য গত ২৬ এপ্রিল কোচ, কর্মকর্তা ও কুস্তিগির মিলিয়ে ১৭ জনের একটি লংলিস্ট বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) পাঠিয়েছিল কুস্তি ফেডারেশন। পরবর্তী সময়ে ২১ জুন দুই কুস্তিগির মাহবুব আলম ও আবদুল সাত্তারের সঙ্গে টিম অফিশিয়াল হিসেবে সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাসুদ আক্তার মোবারকীর নাম পাঠানো হয়। কিন্তু ১৮ জুলাই নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই দিন পরই বদলে যায় সেই তালিকা। ২০ জুলাই বিওএতে পাঠানো নতুন চিঠিতে কুস্তিগিরদের নাম ঠিক রাখা হলেও বাদ দেওয়া হয় মোবারকীর নাম। তার জায়গায় টিম অফিশিয়াল হিসেবে যুক্ত করা হয় ফেডারেশনের বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক শিরিন সুলতানার নাম।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, এই পরিবর্তনের কথা ফেডারেশনের অনেক কর্মকর্তাই জানতেন না। বিওএতে পাঠানো তৃতীয় চিঠির বিষয়টিও তাদের অনেকের অজানা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কার সিদ্ধান্তে এবং কীভাবে শেষ মুহূর্তে দুই পুরুষ কুস্তিগিরের সঙ্গে কোচ হিসেবে শিরিন সুলতানার নাম যুক্ত হলো? শেষ মুহূর্তে সেটি পরিবর্তনের কারণ কী তা নিয়েই চলছে আলোচনা।

এ বিষয়ে চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন আজাদ অবশ্য বলছেন, সময়ের স্বল্পতার কারণেই তাকে কাউকে জানানো সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, ‘আসলে মোবারকী সাহেব আগের কমিটিতে ছিলেন। লংলিস্টে প্রথমবার ওনার, আমার এবং শিরিনের নামও ছিল। তাই সময় কম ছিল বিধায় কাউকে বলতে পারিনি। কমিটি ঘোষণার দুদিন পরই নাম জমা দিতে হয়েছে বিওএতে।’

তবে নাম বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ মাসুদ আক্তার মোবারকী। তার দাবি, নিজের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি তিনি ফেডারেশনের কাছ থেকে জানতে পারেননি, বরং প্রতিবেদকের কাছ থেকেই প্রথম শুনেছেন। মোবারকী বলেন, ‘আমি একজন সাবেক ক্রীড়াবিদ (বাস্কেটবল) এবং কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ। অথচ সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন আজাদ সাহেবই আমার নাম দিয়েছিলেন। আবার তিনিই বাদ দিয়েছেন। যে বিষয়টি সম্পর্কে আমি আপনার (প্রতিবেদক) কাছ থেকেই জানতে পারলাম। এটা নৈতিকতাবিরোধী।’

ফেডারেশনের ভেতরের এই তালিকা পরিবর্তন এখন এশিয়ান গেমসে কুস্তি দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, আন্তর্জাতিক আসরে একজন কুস্তিগীরের সঙ্গে কে কোচ বা টিম অফিশিয়াল হিসেবে যাবেন, সেটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; দলের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

তাই প্রথমে ১৭ জনের লংলিস্ট, এরপর মোবারকীকে টিম অফিশিয়াল করে শর্টলিস্ট এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দিয়ে শিরিন সুলতানার নাম পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ছিল, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে ফেডারেশনের অন্য কর্মকর্তাদের না জানিয়ে তৃতীয় চিঠি পাঠানো হয়ে থাকলে, সেই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াও ব্যাখ্যা করার দাবি উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত