‘গুলি খাওয়ার ভয় করলে চলবে না’

বৈশাখের তপ্ত রোদ, মাঝদুপুরে মাথার উপরে সূর্য যেন আগুন ঝরাচ্ছে। এমন পরিবেশেই জ¦লে উঠলেন নাহিদ রানা, গ্রীষ্মের দাবদাহের সঙ্গে নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে পুড়ল নিউজিল্যান্ডও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ, ১০ ওভারে ৩২ রানে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের অর্ধেক ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠিয়েছে ড্রেসিংরুমে। মাত্র ৩ ম্যাচ আগে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন নাহিদ।

ম্যাচের অষ্টম ওভারে নাহিদ রানাকে বল দিয়েছিলেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম বলেই নাহিদ বিদায় করেন উইকেটে থিতু হয়ে ওঠা হেনরি নিকোলসকে। প্রায় ১৪৫ কিমি/ঘণ্টা গতির বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরে যান ২৬ বলে ১৩ রান করা নিকোলস। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেও প্রথম বলে উইকেট রানার, এবারে তার শিকার উইল ইয়ং। বাড়তি গতি ও বাউন্সে পরাস্ত হন ইয়ং, ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে।

রানার তৃতীয় উইকেটে অবশ্য তার চেয়ে লিটন দাসের কৃতিত্বই বেশি। বাউন্সারে পুল করতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। বল লাগে ব্যাটের উপরের কানায়, হাওয়া ভেসে থেকে চলে যায় ফাইন লেগের দিকে। উইকেটরক্ষক লিটন অনেকটা দৌড়ে শেষ সময়ে শরীরকে টানটান করে দেওয়া ঝাঁপে তালুবন্দি করেন কঠিন একটা ক্যাচ। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে চতুর্থ শিকার নাহিদের, ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো পেলেন ওভারের প্রথম বলেই উইকেট। এবারের শিকার ডিন ফক্সক্রফট, আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। শর্ট পিচ ডেলিভারি, ডিপ মিডউইকেটে রাখা ফিল্ডার; এই ফাঁদে পা দিয়েই বিদায় নিলেন ৩৫ বলে ১৫ রান করা ফক্সক্রফট। দুরূহ ক্যাচটা ধরেছেন তাওহিদ হৃদয়। জেডন লেনক্সকে বোল্ড করে ‘ফাইফার’ পূর্ণ করেন নাহিদ রানা। লেনক্স একটু লেগসাইডে সরে জায়গা বানিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন, স্টাম্প বরাবর ধেয়ে আসা ১৪২ কিলোমিটার গতিবেগের বলটা থামাতে সময়মতো ব্যাট নামাতে পারেননি এই লেগস্পিনার। তাকে শূন্য রানে বিদায় করেই ৫ উইকেট নিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়েন নাহিদ রানা। ম্যাচে সেটাই ছিল তার স্পেলের শেষ ওভার, পরের বলেও জোরাল লেগবিফোর উইকেটের আবেদন ছিল রানার এমনকি রিভিউও নিয়েছিলেন। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, বল যাচ্ছিল লেগসাইডের বাইরে। তাই আরেকটা উইকেট হলো না নাহিদের, হলো না নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসেও যেন আরেকটা স্পেলই করলেন নাহিদ! সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়র্কার আর বাউন্সারই দিলেন মাঠের মতোই। টানা খেলার ক্লান্তি থেকে চোটের ভয়ে উত্তরে বলেছেন, ‘ইনজুরি কখনো বলে আসে না। আপনি যদি একটা যুদ্ধে নামেন তো কখনো গুলি খাওয়ার ভয় করবেন না। ক্রিকেটে ইনজুরি আসবে, এটা স্বাভাবিক। ফিজিও আছে, বিসিবিতেও যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করছেন তারা বিষয়টি দেখছেন এবং কোন সিরিজে কয়টা ম্যাচ খেলব, তারা আগে থেকে নিশ্চিত করে রাখে। তো অবশ্যই তারা আমাদের পেসারদের জন্য প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখেন।’ মাঠে ফিট থাকার জন্য ম্যাচ যখন থাকে না সেই সময়টাতেই কঠোর পরিশ্রম করেন ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’, ‘অনুশীলনের বাইরে বা অনুশীলনে ফিটনেস ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করি। যেভাবে ফিটনেস বাড়ানো যায় বা হাই রাখা যায় সে প্রক্রিয়া মেনে চলি। তাই ম্যাচের সময় আমি কখনো মাঠে ক্লান্ত অনুভব করি না, ইনজুরির ভয়ও না।’

নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধি হয়ে আসা নিক কেলি আশাবাদ শুনিয়েছিলেন চট্টগ্রামে জিতে সিরিজ জয়ের। নাহিদ আত্মবিশ্বাস নিয়েই বলেছেন, চট্টগ্রামে জিতে সিরিজ নিজেদের করবে বাংলাদেশ। দলকে জেতানো পারফরম্যান্সের পর নাহিদের এই আত্মবিশ্বাসই বলে দেয়, শুরুর হারের ছন্দপতন ভুলে বন্দরনগরীতে বাংলাদেশ জেতে চায় জয়ের লক্ষ্য নিয়েই।