গাজায় ত্রাণ প্রবেশে আদালতের রায় উপেক্ষা করছে ইসরায়েল

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। ইসরায়েলের শীর্ষ আদালত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন একটি দাতব্য সংস্থার পরিচালক। 

ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিলের ফিলিস্তিনি অঞ্চলের পরিচালক অ্যালান মসলে সোমবার (২০ এপ্রিল) বলেন, বিদেশি ত্রাণকর্মীদের প্রবেশ এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ত্রাণসামগ্রীও নিয়মিতভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, প্রায় কোনো আন্তর্জাতিক এনজিওই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজায় সরাসরি ত্রাণ পাঠাতে পারেনি। 

এর আগে ডিসেম্বর মাসে ইসরায়েল ৩৭টি বেসরকারি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যদি তারা তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য না দেয়। মানবিক সংস্থাগুলো তখন সতর্ক করে বলেছিল, এই সিদ্ধান্ত গাজায় ইতোমধ্যে সংকটাপন্ন ত্রাণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে। 

ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, ফলে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত সংস্থাগুলো গাজা ও পশ্চিম তীরে কাজ চালিয়ে যেতে পারার কথা ছিল। তবে বাস্তবে বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ, এমনকি ত্রাণসামগ্রীও সীমান্তে আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

যদিও অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ট্রাকগুলো কিছু মৌলিক পণ্য প্রবেশ করাতে পারছে, তবে সেগুলোর দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সাধারণ মানুষের জন্য তা প্রায় অপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, কিছু ত্রাণ সামগ্রী দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য, যা সামরিক কাজে ব্যবহার হতে পারে। তবে ত্রাণকর্মীরা বলছেন, এই যুক্তিতে হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ, স্কুল সরঞ্জাম এমনকি শিশুদের পোশাক পর্যন্ত আটকে দেওয়া হচ্ছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।