ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমার বিরুদ্ধে মাটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে এক্সকাভেটর ভাঙচুর ও ব্যাটারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত রবিবার রাতে উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদরবেশ গ্রামে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মফিজুল হক প্রতিকার চেয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) ফেনীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ২০ বছর আগে ৩৪০ শতক জমি কিনে ৭টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন। মুসাপুর ক্লোজার ড্যাম ভেঙে যাওয়ায় নদীর নোনা পানি পুকুরে ঢুকে পড়ে। ফলে পুকুরের পাড় সংস্কারের জন্য একটি এক্সকাভেটর ভাড়া করে প্রকল্প এলাকায় রাখা হয়। গত রবিবার রাতে ইউএনও রিগ্যান চাকমা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক্সকাভেটরটি ভাঙচুর করেন এবং ব্যাটারি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় মফিজুল হক তার মেয়ের জামাতার মৃত্যুর খবরে শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। তিনি জানান, ফেসবুকে বিষয়টি দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পান। পরবর্তীতে ইউএনওকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মৎস্য প্রকল্প থেকে বীজ বর্ধনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তার ভাড়া করা এক্সকাভেটর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৎস্য প্রকল্পের পাশে বিকল অবস্থায় এক্সকাভেটরটি পড়ে আছে, তবে আশপাশে মাটি কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকায় একটি চক্র এক্সকাভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। এ কারণে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও অভিযান চালিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও রিগ্যান চাকমা বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এক্সকাভেটরটি ব্যবহারের অযোগ্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নিজেই নিয়মিত মাটি কাটার তথ্য দিয়ে তাকে অবহিত করতেন এবং অভিযানে গিয়ে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানা যায়।