চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই একটি পারিবারিক কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামের মোসলেম মুন্সি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ৯ জুলাই দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সাতকানিয়া থানায় অবহিত করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য মিজানুল ইসলাম।
মিজানুল ইসলামের অভিযোগ, উপজেলার নলুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ফখরুদ্দিন মিন্টুর অনুসারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ফখরুদ্দিন মিন্টু বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও তার বড় ভাই কামাল উদ্দিন ওই গ্রুপের কার্যক্রম দেখাশুনা করছেন এবং ভাগিনা মোরশেদ আলম গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এবিষয়ে জানতে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্ত মোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি একজন মুসলিম হয়ে কি কবরস্থানের দেওয়াল ভাঙতে পারি। এতে আমার লাভটা কি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র আধিপত্য বিস্তার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, মাদক বেচাকেনা ও প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা মোরশেদ আলম রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতপন্থী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাব বজায় রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই-পরবর্তী ঘটনাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, মিন্টু ও কামাল উদ্দিনের প্রভাবের কারণে এলাকায় কেউ প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। অভিযোগ করলে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হয়।
ভুক্তভোগী মিজানুল ইসলামের অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে তার ওপর হামলা হয়েছে এবং বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও চুরি করা হয়েছে। সর্বশেষ বন্যার সুযোগে রাতের আঁধারে পারিবারিক কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসন ও থানায় জানানো হয়েছে।
তার দাবি, ২০২৪ সালের ২৭ জুন সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট বাবার কবর জিয়ারত করতে গেলে মোরশেদ আলম তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন। হামলায় তার বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি দা উদ্ধার করে বলে তিনি জানান। এছাড়া চলতি বছর ২১ জানুয়ারি রাতে তার বাড়ির চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
মিজানুল ইসলামের দাবি, গত ২৮ মে ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এসে মোরশেদ আলমের আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এবং তার সহযোগী শহিদের ধারালো কিরিচ হাতে তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। ওই ঘটনাও থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ তাকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনে আওতায় আনা হবে।