গোবিন্দগঞ্জে স্কুল বন্ধ রেখে মেলার নামে চলছে নগ্ন নৃত্য

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা দ্বি-মুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম টানা ৫ দিন বন্ধ রেখে বিদ্যালয় মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করে স্টল সাজিয়ে নানা ধরণের দোকান-পাট বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মেলায় সার্কাসের নামে চলছে নগ্ন নৃত্য। যা যুব সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া চলতি এসএসসি পরীক্ষার সময় মেলায় উচ্চ শব্দে গান বাজনা চলার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লোক দেখানোভাবে উপস্থিত থাকলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি কোনো শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা হাইস্কুল মাঠে গত বৃহস্পতিবার থেকে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৫ দিন ধরে চলছে এ মেলা। মেলায় বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনার পাশাপাশি বিনোদনের নামে সার্কাস ও নগ্ন নৃত্য চলছে। বিদ্যালয় বন্ধ করে মাঠে স্টল সাজিয়ে বিভিন্ন প্রকার দোকান বসানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে মেলা কমিটির সভাপতি কামারদহ ইউপি মেম্বর রশিদুল ইসলাম এরোম জানান, প্রতি বছর এইভাবেই স্কুল মাঠে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য মেলা বসে থাকে। প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেই স্কুল মাঠে মেলা বসানো হয়েছে। তাছাড়া মেলা কমিটির সেক্রেটারি কামারদহ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব শাহাবুল ইসলাম সরকার সাবু মেলার বিভিন্ন দিক দেখভাল করছে বলেও তিনি জানান।

ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক নুরুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। এরপর বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বিদ্যালয় মাঠে বসানো এ মেলায় ২৪ ঘন্টা উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হচ্ছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এ জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করে মেলা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

মেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ রিপন মিয়া বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করে মেলা বসানো হয়েছে। তা ছাড়া গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের এল.আর ফান্ডে প্রতিদিনি ৫ হাজার করে টাকা জমা দেওয়া হয়। এ ভাবে আরও ২ দিন (শুক্রবার পর্যন্ত) মেলা চলবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ফাঁসিতলা দ্বি-মুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা স্কুল খোলা রেখেছি এবং সব শিক্ষক উপস্থিত রয়েছি। কিন্তু মেলার কারণে কোনো ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে আসেনি। আমার কাছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. এরোম মেলার জন্য বিদ্যালয় মাঠ চেয়েছিলেন। আমি তাকে স্কুল মাঠে মেলার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছি এবং স্কুল বন্ধ রেখেছি।

মেলার মাঠের মাত্র ১শ গজ পূর্ব পাশ্বে অবস্থিত ফাঁসিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জুয়েল জানান, স্কুল খোলা থাকলেও মেলার মাইক ও সাউন্ড বক্সের প্রচন্ড শব্দের কারণে কক্ষের দরজা-জ্বানালা বন্ধ করে অতি কষ্টে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মনের উপর প্রেসার ক্রিয়েট করে কোন রকমে তাদের ক্লাসে বসিয়ে রেখে পড়ানো হচ্ছে। 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শাহানা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় মাঠে মেলা করতে হলে লিখিতভাবে আবেদন করার পর অনুমতি নিতে হয়। স্কুল বন্ধ করে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে স্কুল মাঠে মেলা বসানো হয়েছে যার কোনো অনুমনি নেওয়া হয়নি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ রেখে মাঠে মেলা বসানো বে-আইনি। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।