খাল খনন চলছে যন্ত্র দিয়ে, শ্রমিক আছে কাগজে কলমে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে খাল খনন ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজ-কলমে হাজারের বেশি শ্রমিক দিয়ে কাজ পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে খনন চলছে একাধিক এক্সকাবেটর (ভেকু) মেশিনে।

এতে সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকেরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী  গুরুত্বপূর্ণ  খালসমূহ খনন, পুনঃখনন ও খালপাড়ে বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতায়  এই উপজেলায় দুটি খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদনসহ বরাদ্দ হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের ভাউদারবাড়ী থেকে দিঘলকান্দি ব্রিজ হয়ে পারগয়রা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া রাখালবুরুজ ইউনিয়নের সিংজানিতে ৪ কিলোমিটার খাল খননের জন্য এক কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, এই দুটি প্রকল্প মিলে ১২টি ভেকু খননের কাজ করছে। এর মধ্যে কামারদহ ও রাখালবুরুজ ইউনিয়নে ছয়টি করে। দুটি প্রকল্পে নারী-পুরুষ মিলে ১৭ হাজার ৬০০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা ছিল। এর মধ্যে কামারদহ ইউনিয়নের প্রকল্পে ১৬ হাজার ৬০০ ও রাখালবুরুজ ইউনিয়নের প্রকল্পে এক হাজার জন। প্রকল্প দুটি ঘুরে কোথাও কোনো শ্রমিক দেখা যায়নি। তাদের নাম শুধু তালিকায় দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা শুনেছি। তালিকাও করা হয়েছে। এখন দেখছি ভেকু দিয়ে খনন চলছে। কাজ যে খুব একটা ভালো হয়েছে, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। এসব খাল খননে জনগণের কোন উপকারে আসবে না, শুধু অফিসারের পকেট ভারি হবে।

কামারদহ ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, ছয়টি ভেকু দিয়ে খাল খননের কাজ চলছে। হামরা গরীব মানুষ। হামাকেরে এখন কি হবে।

দিনমজুর কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রকল্প স্থানে কোনো সাইনবোর্ড নেই। প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্য সচিবকে তা জানেন না কেউ। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিন্দার আলী বলেন, তারও প্রকল্প সভাপতি ও সদস্য সচিবের নাম জানা নেই।

তিনি জানান, খালের তলদেশ সমান করার জন্য প্রাথমিকভাবে ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে শ্রমিকদের মাধ্যমে বাকি কাজ  সম্পন্ন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, প্রকল্পটি পিআইওর কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তত্ত্বাধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোনো অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত