গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১২টায় কর্মসূচির শুরুতে কাটামোড় এলাকায় অস্থায়ী শহীদ সিধু কানুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে তির ধনুক নিয়ে দুই শতাধিক সাঁওতাল বাঙালি অংশ নেন।

প্রথমে কাটামোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এই কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া  বাগদা ফার্ম বাজার এলাকায় একটি সমাবেশ করেন সাওতালের একাংশ। এতে সভাপতিত্ব করেন গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। 

কাটামোড এলাকায় গণসমাবেশে গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক সুফল হেমব্রমের সভাপতিত্বে বক্তাব্য রাখেন কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আমিনুল ফরিদ, আদিবাসি ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন, সাধারণ সম্পাদক শ্রী কান্ত মাহত রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম, ভুমিহীন আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন,সাওতাল নেতা বার্নাবাস টুডু,  জোগেশ্বর বমন, জাকরুল ইসলাম, গনেশ বমন প্রমুখ। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি দখলদারদের বিরুদ্ধে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, সেই আদিবাসী জনগোষ্ঠীই স্বাধীন বাংলাদেশে এখনো জমি হারিয়ে নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছে। যুগের পর যুগ ধরে সাঁওতালদের ভূমি কেড়ে নিয়ে তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। বর্তমানে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের অজুহাতে আদিবাসীদের পূর্বপুরুষের জমি থেকে উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা চলছে। বক্তারা অবিলম্বে রিকুইজিশন চুক্তি অনুযায়ী জমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান এবং রাষ্ট্রকে আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, ২০১৬ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার দাবি করা হয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু সাঁওতালরা এখনো অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ-লুটতরাজ ও তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের বিচার বিগত সরকার করতে পারেনি। জীবনের নিরাপত্তাসহ বাগদা ফার্মের ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি পূর্ব মালিকদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তারা।

এসময় তারা আরও বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহ কেবল অতীত নয়, এটি অধিকার আদায়ের চলমান সংগ্রামের প্রেরণা। এই বিদ্রোহ দিবসের অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য,১৮৫৫ সালে ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। সেই বিদ্রোহে নিহত হন সাঁওতাল নেতা সিধু-কানুসহ আরও অনেকে। তখন থেকে সাঁওতালরা প্রতিবছর ৩০ জুন সাঁওতাল 'হুল' বা 'বিদ্রোহ দিবস' পালন করে আসছে।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সাহেবগঞ্জ এলাকার জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে যায়। এতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন।

পরে দফায় দফায় সাঁওতালরা চিনিকলের জমি দখল করতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) কর্তৃপক্ষকে ইপিজেড বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বেপজা সাহেবগঞ্জ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয় সাঁওতালরা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করছেন।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত