মার্কিন মধ্যস্থতা কি মেনে নেবে হিজবুল্লাহ?

সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে আজ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে পুনরায় আলোচনায় বসছে ইসরায়েল ও লেবানন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাতে পারে লেবানন। উল্লেখ্য, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকে প্রত্যাখ্যান করে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিজবুল্লাহর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত পরোক্ষ মধ্যস্থতা মেনে নিতে পারে গোষ্ঠীটি। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, গত বুধবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, লেবানন রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো ‘গুরুতর বিরোধ’ নেই। শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে মূল বাধা হিসেবে তিনি হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। তার মতে, হিজবুল্লাহর কার্যক্রমই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন স্থানে তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলোতে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে।

গত বুধবার ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের প্রথিতযশা সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লেবানন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের শুরু থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৪৫৪ জনে। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। ওয়াশিংটনের আজকের এই বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে লেবাননের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির সম্ভাবনা।

সূত্র: আল-জাজিরা