ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হেনেছে এক শক্তিশালী বিধ্বংসী ভূমিকম্প। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই কেঁপে ওঠে পুরো অঞ্চল। এতে অন্তত ৪৭ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনার পর ধসে পড়া অগণিত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
দেশটির আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটার কিছু আগে ফ্লোরেস দ্বীপে সাত দশমিক সাত মাত্রার প্রবল ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তিস্থল হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা অনেক বেশি হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর পর পর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। যার ফলে শত শত ঘরবাড়ি, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি কার্যালয় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। দুর্যোগের মাত্র এতই বিশাল যে, পুরো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনো পরিষ্কার নয়। এর মধ্যেই দেশটির অন্য একটি প্রান্তে ছয় দশমিক ৯ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক ঝুঁকির কথা আবারও মনে করিয়ে দেয়।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে মাংগারাই প্রদেশে, যেখানে ২৪ জন মারা গেছেন। এছাড়া পূর্ব মাংগারাইয়ে ১৭ জন, সিক্কায় ৩ জন এবং অন্যান্য কয়েকটি এলাকায় আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর জানান, হঠাৎ করে ভবন ধসে পড়ায় ঘুমন্ত অবস্থাতেই অনেকের করুণ মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট ঝাঁকুনিতে ঘুম ভাঙার পর চারদিকে শুধু চিৎকার ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় সমুদ্রের পানি অনেকটা পিছিয়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। প্রাণভয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু পাহাড়ের দিকে ছুটে যান। যদিও প্রায় তিন ঘণ্টা পর কোনো বড় ধরণের জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। বন্দর এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; টার্মিনাল ভবনের কংক্রিট ভেঙে পড়ে এবং একটি গ্যাংওয়ে ধসে কয়েকজন যাত্রী সাগরে পড়ে যান।
বর্তমানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ভূমিধ্বসে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী দলগুলোকে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর বাইরে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ইতোমধ্যে হাজার হাজার ত্রাণ প্যাকেজ পাঠানো শুরু হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯৪