অনেক অনেক শর্ত দিয়ে অলিম্পিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শুটার কামরুন নাহার কলির এক বছরের নিষেধাজ্ঞাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তাতে বেশ বোঝা যায় ভীষণ অনিচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেশন। কলির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিঠিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নাম উল্লেখ করে এক প্রকার তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে মনে করেন শুটিং সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এত এত শর্ত দিয়ে শাস্তি প্রত্যাহার মেনে কলি কতটা স্বাভাবিক পারফরম্যান্স করতে পারবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন অনেকের।
কলির শাস্তি প্রত্যাহার করলেও ফেডারেশন আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেওয়া দুজন সাবেক নারী শুটার সাবরিনা সুলতানা ও শারমিন আক্তার রতœাকে অবাঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেনি। তিন তরুণ শুটার তাসমিয়াতি এমা, মির্জা আবিদুর রহমান আহাদ ও পিয়াসের সাময়িক বহিষ্কারাদেশও তুলে নেয়নি ফেডারেশন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইস্যুকৃত চিঠিতে লেখা হয় ‘কলির আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ‘সবিশেষ সুপারিশে’ তার ওপর আরোপিত সাময়িক বহিষ্কার আদেশ নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার করা হলো।’ বোঝা যায় প্রতিমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে মূলত ফেডারেশন কর্তারা এ সিদ্ধান্ত যে নিজেদের নয়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন। চিঠিতে এরপর জুড়ে দেওয়া হয় শর্তের দীর্ঘ তালিকা। শর্তগুলো এমন ‘ফেডারেশনের অনুমিত ছাড়া কোনো সংবাদ মাধ্যমে (প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক বা অন-লাইন) বা সামাজিক মাধ্যমে ফেডারেশনবিরোধী বা উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান করা যাবে না। ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত, কোচ বা অন্য কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে বিতর্কিত বা অবমাননাকর কোন পোস্ট করতে পারবে না। যে কোনো প্রকার মিডিয়া ইন্টারভিউ বা টকশোতে অংশগ্রহণের পূর্বে কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।
‘জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, অভ্যন্তরীণ আলোচনা বা ফেডারেশনের প্রশাসনিক কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্রোফাইল বা মিডিয়াতে কোনো বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে ফেডারেশন কর্র্তৃক নির্ধারিত মিডিয়া সেলের গাইড লাইন অনুসরণ করতে হবে। অন্যান্য সব সাধারণ শুটারদের জাতীয় শুটিং ক্যাম্প বা অন্য যে কোনো শুটিং স্থাপনার সব নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।