ওয়াসিম আকরামের উচ্চতায় হাসান মাহমুদ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৭ এএম

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নাম লেখানোই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে তাদের মাঠে নিজের প্রথম ম্যাচেই রূপকথা লিখলেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অজিদের বিপক্ষে লাল বলের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ম্যাচে সব মিলিয়ে ৯ উইকেট শিকার করে কেবল ম্যাচসেরার পুরস্কারই জেতেননি, বিশ্বক্রিকেটের এক অনন্য ও অভিজাত রেকর্ডের পাতায় মরিস টেট ও ওয়াসিম আকরামদের মতো কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম খোদাই করে নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম টেস্টে সফরকারী পুরুষ বোলারদের সেরা বোলিং ফিগারের তিনে এখন হাসান। সেই তালিকায় শীর্ষে আছেন ইংল্যান্ডের মরিস টেট। ১৯২৪ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্টে এই সাবেক কিংবদন্তি ২২৮ রান খরচায় নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। তার প্রায় ছয় দশক পর ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে অজিদের বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্টে ১৬০ রান দিয়ে ১১ উইকেট শিকার করে আলোড়ন তুলেছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম।

ইতিহাসের সেই সোনালি পাতায় এবার যুক্ত হলো হাসানের নাম। ডারউইনে টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১১ রান খরচায় নিয়েছেন ৯টি উইকেট। যার শুরুটা হয়েছিল প্রথম ইনিংসে অজি ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামানো এক বিধ্বংসী ৬ উইকেট দিয়ে, আর দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ হয় আরও গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট, যার মধ্যে ছিল সেঞ্চুরিয়ান ক্যামেরন গ্রিনের উইকেটটাও।

এদিকে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয় ও প্রক্রিয়ার ওপর বেশি জোর দিলেন হাসান। ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময় নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ম্যাচের আগের অনুশীলন সেশনে আমরা প্রতিটা সেকেন্ড নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ফল কী হতে পারে তা নিয়ে না ভেবে আমরা স্রেফ নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রেখেছি।’

অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পেছনের কৌশল সম্পর্কে তরুণ এই পেসার আরও যোগ করেন, ‘কোচদের সঙ্গে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। তারা কীভাবে ব্যাট করেন, সেই ভিডিও অ্যানালিসিস করে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম এবং মাঠের ভেতরে ঠিক সেটাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’

রাওয়ালপিন্ডি থেকে মিরপুরের সেসব বড় জয় ছাপিয়ে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় অর্জন ডারউইন জয়। এমন জয় উৎসবের চেয়ে কম কিছু না। তাই তো দেশের মাঠে এই জয়ের বার্তা কী ধরনের সাড়া ফেলবে তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হাসান, ‘আমার এই অর্জনে দেশে বাংলাদেশের মানুষ খুব খুশি হবে। নিশ্চয়ই পুরো দেশজুড়ে এখন উৎসবের পরিবেশ এবং তারা এই জয় উদ্যাপন করবে।’

অজিদের দুর্গ ভেদ করে তার এই ঐতিহাসিক অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেরই নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেস্ট ইতিহাসেরও অন্যতম এক গর্বিত অধ্যায়ের নাম। বিগ-থ্রি খ্যাত স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজলউড যখন একইসঙ্গে নামলেন সেখানে তাদের ছাপিয়ে এই হাসানই ডারউইন টেস্টের পেসারদের একচ্ছত্র রাজা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত