পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় উগ্রপন্থীদের অনবরত অনুপ্রবেশ এবং ধর্মীয় স্থাপনার মর্যাদা লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, খবর আরব নিউজের।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সৌদি আরবসহ বিশ্বের প্রধান কয়েকটি মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
রিয়াদে দেওয়া এই বিবৃতিতে তারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উল্লেখ করেন, বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদ প্রাঙ্গণটি কেবল মুসলমানদের ইবাদতের স্থান। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও চরমপন্থী মন্ত্রীদের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যেকোনো মূল্যে বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এই পবিত্র স্থান রক্ষায় জর্ডানের হাশেমি রাজবংশের বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতি দেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জর্ডানের আওকাফ ও ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জেরুসালেম এনডাউমেন্টস ও বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদবিষয়ক বিভাগই এই চত্বরের যাবতীয় বিষয় পরিচালনার একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৩০টিরও বেশি নতুন বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেওয়া মতামতের স্পষ্ট অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া ফিলিস্তিনি স্কুল ও শিশুদের ওপর উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই উল্লেখ করে মন্ত্রীরা ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারের প্রতি পুনরায় সমর্থন ব্যক্ত করেন।
তারা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, ইসরায়েলের এই অবৈধ পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে সরাসরি বাধা এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়ে তারা দ্বিরাষ্ট্র পদ্ধতির ভিত্তিতে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।