মদিনায় ১৭৭৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

মদিনার আল-মাহদ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে ১ হাজার ৭৭৪টি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আবিষ্কার করেছে সৌদির হেরিটেজ কমিশন। সাম্প্রতিক এ অনুসন্ধানে ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকে শুরু করে আরও প্রাচীন বিভিন্ন সভ্যতার উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। আবিষ্কৃত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে শিলালিপি, শিলাচিত্র, প্রাচীন কূপ, ঐতিহাসিক প্রাসাদ ও কাফেলা চলাচলের পথ। 

হেরিটেজ কমিশন জানায়, মদিনা অঞ্চলের আল-সুওয়াইরিকিয়াহ, আল-মুওয়াইহিয়াহ ও হাজাহ এলাকায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৫৬টি নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান পাওয়া যায়। এসব স্থান থেকে ৪৬১টি ইসলামি শিলালিপি, ৩৪টি সামূদীয় লিপি, ১ হাজার ২৫৯টি শিলাচিত্র, ১১টি পাথরের স্থাপনা, তিনটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ, দুটি কাফেলা পথ এবং চারটি প্রাচীন কূপ নথিভুক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর নামসংবলিত শিলালিপি। এছাড়া পাথরের গায়ে উৎকীর্ণ আরবি কবিতাও পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

হেরিটেজ কমিশন বলেছে, সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তারা ধারাবাহিকভাবে জরিপ, গবেষণা ও নথিভুক্তকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এর আগে গত সপ্তাহে কমিশন যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আল-জুহফাহ মিকাত এলাকায় পরিচালিত যৌথ বৈজ্ঞানিক অভিযানের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে। সেখানে ১ হাজার ৭০০টির বেশি প্রত্নবস্তু আবিষ্কৃত হয়। এসব আবিষ্কার মিসরীয় হজযাত্রীদের ঐতিহাসিক পথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আল-জুহফাহের অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। 

আল-জুহফাহ থেকে উদ্ধার হওয়া নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীর খণ্ডাংশ, ছয়টি মৃৎপাত্র তৈরির চুল্লি, একটি পানি সরবরাহ খাল এবং উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগের ১৩টি সমাধিফলক। এছাড়া লেভান্ট, মিসর ও ইথিওপিয়া থেকে আগত হাজিদের ব্যবহৃত বলে ধারণা করা বিভিন্ন বস্তু পাওয়া গেছে, যা সে সময়ের বিস্তৃত যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সাক্ষ্য বহন করে।

মক্কার উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১৮৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আল-জুহফাহ ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসবিদদের মতে, দ্বিতীয় হিজরি শতকে এলাকাটি বিশেষভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। সে সময় সেখানে হাজিদের সেবায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, দোকানপাট এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত