পূর্ণিমার চাঁদ ছুঁয়ে দিল মক্কার ক্লক টাওয়ার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

রাতের আকাশ। চারদিক নিস্তব্ধ। আঁধারের বুক চিরে আলো ছড়াচ্ছে একটি স্নিগ্ধ গোলক। সেটি পূর্ণিমার চাঁদ। মায়াবী এক রূপ। সেই রূপের সুধা যেন ঝরে পড়ছে পৃথিবীর পবিত্রতম ভূমিতে। আকাশ আর জমিনের এক অপূর্ব মিতালি। এমন দৃশ্য মনকে ভরিয়ে দেয়। জাগিয়ে তোলে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। মোহময় এই প্রহর যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল সময়ের কাঁটায়।

গত ১৫ মহররম রাতের আকাশে এমনি এক অভাবনীয় ও মনমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয়। পবিত্র মক্কা নগরীর আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ যেন পরম মমতায় নেমে এসেছিল। সুবিশাল মক্কা ক্লক টাওয়ারের চূড়ায় থাকা সোনালি রঙের হেলাল বা অর্ধচন্দ্রের কাছে জায়গা করে নেয় এই আলোকিত পূর্ণশশী।

ক্লক টাওয়ারটি ১২০ তলাবিশিষ্ট। এর উচ্চতা ১৯৭২ ফুট। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ক্লক টাওয়ারের ওই বিশাল স্থাপত্য যেন তার দুই হাত বাড়িয়ে পরম আদরে আগলে রেখেছে আকাশের চাঁদটিকে। রাতের গাঢ় অন্ধকারে এই দৃশ্য যে কারো হৃদয়ে এক গভীর প্রশান্তি এনে দেয়। আলোকচিত্রী ইউসুফ বাজাশের ক্যামেরায় ধরা পড়া এই ছবিটি মুহূর্তেই পৃথিবীর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষের নজর কেড়েছে। রাতের আকাশের পটভূমিতে উজ্জ্বল চাঁদ আর ক্লক টাওয়ারের সুউচ্চ চূড়ার এই যুগলবন্দি এক অসাধারণ নৈসর্গিক শিল্পের জন্ম দিয়েছে।

মক্কা নগরী বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য বিশ্বাস ও আবেগের সর্বোচ্চ স্থান। সেই পবিত্র ভূমির কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লক টাওয়ার এমনিতেই এক বিস্ময়কর স্থাপনা। তার ওপর প্রকৃতির এমন নিখুঁত ও চমৎকার বিন্যাস যেন এক ঐশ্বরিক ক্যানভাস তৈরি করেছে। চাঁদের এই স্নিগ্ধ আলো যখন পবিত্র কাবা শরিফের আশপাশের আঙিনায় আছড়ে পড়ে, তখন সেখানকার আধ্যাত্মিক পরিবেশ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। মক্কার রাতের শীতল হাওয়া, ঘড়ির কাঁটার চলমান অস্তিত্ব আর রাতের নীরবতার মাঝে চাঁদের এই অবস্থান এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করেছে।

মহান আল্লাহ যেন পরম যত্নে সাজিয়ে দিয়েছেন এই দৃশ্যপট। একদিকে মানুষের তৈরি স্থাপত্যের বিশালতা, অন্যদিকে মহান স্রষ্টার সৃষ্টির নিখুঁত ও অকৃত্রিম সৌন্দর্য। এই দুইয়ের অপূর্ব মিলনে মক্কার রাতের আকাশ যেন হয়ে উঠেছিল জীবন্ত কবিতা। এমন মায়াবী মুহূর্তগুলো আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টির মাঝেই লুকিয়ে আছে মহান সত্ত্বার অসীম সৌন্দর্য।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত