নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পূর্ব সস্তাপুর কায়েমপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগুনে একাধিক ঝুটের গোডাউন, রিকশার গ্যারেজ, বেকারীর গোডাউন, মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে গেছে। এসময় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট এক ঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পূর্ব পাশে জেলখানা সংলগ্ন কায়েমপুর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আরো চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। এসময় অল্পের জন্যে রক্ষা পায় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। 

স্থানীয়রা জানান, একটি ঝুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মূহুর্তের মধ্যে আগুন পাশের একটি চায়ের দোকান, একটি মোটরসাইকেলের দোকান এবং আরও কয়েকটি ঝুটের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এসময় এলাকাবাসী ও স্থানীয় লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকেন। 

প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান, কায়েমপুর এলাকায় জেলা কারাগারের কাছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে সরকারী জমিতে টিন দিয়ে তৈরী করা ঘরে গার্মেন্টস থেকে ঝুট সংগ্রহ করে বাছাইয়ের মাধ্যমে তা বিক্রি করেন। এ গোডাউনে আশরাফ, সালাম, মিন্টু, লাল মিয়া, রফিক ও মমিনসহ ৮/১০জন জুটের ব্যবসা করেন। তাদের এ গোডাউন থেকে সন্ধ্যার সময় হঠাৎ আগুনের শিখা অনেক উপড়ে উঠে যায়। এরপর তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আশপাশের গ্যারেজ, গোডাউন ও দোকান ঘরে আগুন ধরে যায়। তখন ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। এরপর আরো ৪টি ইউনিট এসে তাদের সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। এরমধ্যে গোডাউনে যা ঝুট ছিল সবই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর কাছেই সুগন্ধা বেকারীর গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমানের খাদ্যপন্য পুড়ে যায়। পাশে থাকা একটি বহুতল ভবনের এক পাশের দেয়াল আগুনে পুড়ে গেছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের হাজীগঞ্জ ও মন্ডলপাড়া স্টেশনের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তাদের প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঢাকা ও  নারায়ণগঞ্জ সহ আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কাজ করে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি পরিমান এখনো নিরুপণ করা যায়নি এবং কোন হতাহতের নেই। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

এনটিভির ক্যামেরাপার্সন তারেক স্বপন জানান, অল্পের জন্য তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে তারা যে ভবনে থাকেন সেটিতেও আগুন ধরে যেত। ইতোমধ্যে আগুনে ভবনের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আতংকে পরিবার নিয়ে ভবনের ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। 

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক নুরুজ্জামান জানান, তাদের ৮টি ইউনিট দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানানো হবে। হতাহত বা নিখোঁজের কোন অভিযোগ পাইনি। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান ক‌বির জানান, এ ঘটনায় কোন হতাহত নেই। আগু‌নের সূত্রপাত তদন্তের প‌রে বলা যা‌বে।