পৃথিবীর অনেক কিছু আমাদের ধাঁধা লাগিয়ে দেয়। তখন জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথা ভেবে সৃষ্টিকর্তার কথা ভাবি। এমনই অদ্ভুত কিছু সৃষ্টির কথা শুনে, আমরা হই বিস্ময়ে হতবাক। এমন অদ্ভুত দ্বীপ বোভেট। পৃথিবীর বহুদিকে অসংখ্য দ্বীপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। রয়েছে অনেক রহস্যঘেরা দ্বীপ ও উপদ্বীপ। এদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম ও রহস্যময় হচ্ছে বোভেট দ্বীপ। এটির অবস্থান হচ্ছে মেরু অঞ্চলে। দ্বীপটিকে এ যাবৎকালে সন্ধান পাওয়া দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় আর দুর্গম বলে অভিহিত করা হয়। এখানে স্থলপথে যাওয়ার কোনো উপায় নেই এবং জলপথে যাওয়াও প্রায় দুঃসাধ্য ব্যাপার। রহস্যময় এ দ্বীপ সম্পর্কে যা কিছু জানা গেছে তা জানা হয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ ও বিমানের মাধ্যমে। বোভেট দ্বীপে কখনো মানববসতি গড়ে উঠেছিল এমন ধারণার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ষাটের দশকের একটি পরিত্যক্ত লাইফ বোট দেখতে পাওয়া গেছে। কিন্তু দ্বীপের কোথাও লাইফ বোট ব্যবহারকারী কাউকে দেখা যায়নি, এমনকি বোটটি ওখানে কীভাবে এলো সে কথাও জানা যায়নি। বোভেট দ্বীপ সম্পর্কে রহস্যের শেষ নেই। এ দ্বীপ সম্পর্কে এমন কিছু কথা প্রচলিত রয়েছে যার কোনো সত্যতা ও প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এমনও বলা হয়ে থাকে যে, বোভেট দ্বীপের পাশে এমন আরও একটি দ্বীপ ছিল অথচ এখনো সে রকম কোনো দ্বীপের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই দ্বীপটির মোট আয়তন হচ্ছে ৭৫ বর্গমাইল। দ্বীপটি পুরোটা বরফের চাদরে মোড়া। এই বরফের কারণে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাণী নেই বললেই চলে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এখানে শুধু শিল, পেঙ্গুইন আর দুই-এক প্রজাতির সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। আর কিছু নয়।