প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনির সন্দেহ আছে। মাত্র ৪৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন বর্তমান হোয়াইট হাউজ তার কাজে দক্ষ। ৬০ শতাংশ বলছেন, দায়িত্ব পালনের মতো যথাযথ মেজাজ ট্রাম্পের নেই। ৫৫ শতাংশ প্রশ্ন তুলেছেন তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও। বুধবার ফক্স নিউজের নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য।
অবশ্য ক্ষমতাসীন প্রশাসনের প্রতি মার্কিনিদের এ অনাস্থার চিত্র নতুন নয়। ২০১৫ সালে সেসময়কার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের দক্ষতায় আস্থা ছিল মাত্র ৪৪ শতাংশ মানুষের। জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় তো অবস্থা ছিল আরও করুণ। ২০২২ সালে কেবল ৩৮ শতাংশ ভোটারের কাছেই ওই প্রশাসনকে দক্ষ মনে হয়েছিল।
রিপাবলিকান ভোটারদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে দুইজন এখনকার প্রশাসনকে অদক্ষ মনে করেন। ডেমোক্র্যাটদের প্রায় সবাই (প্রতি ১০ জনে ৯ জন), নিরপেক্ষ ভোটারদের প্রতি ১০ জনে ৭ জন, এমনকি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের সমর্থক নন এমন রিপাবলিকানদেরও প্রতি ১০ জনে ৪ জন একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দৈবচয়নভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
জরিপে দেখা যায়, ৫৮ শতাংশ মানুষই ট্রাম্পের কাজে অসন্তুষ্ট। তার অভিবাসন নীতিতে আস্থা প্রকাশ করেছেন ৪৬ শতাংশ মানুষ। পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি দমনের বিষয়ে এ হার যথাক্রমে ৪০, ৩৪ ও ২৮ শতাংশ। ইরান ইস্যুতেও তার পক্ষে আছেন কেবল ৩৭ শতাংশ ভোটার। কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই তার ওপর ভোটারদের সন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৩ শতাংশ লোকই তার এ সংক্রান্ত কাজে খুশি। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার প্রেসিডেন্টের আচার-আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ৬০ শতাংশ বলেছেন, দায়িত্ব পালনের মতো যথাযথ মেজাজ ট্রাম্পের নেই। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে এমন ভাবা ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫২%।
ফক্সের সর্বশেষ এ জরিপে অংশ নেওয়া ৫৭ শতাংশ লোক মনে করেন, ট্রাম্পের সঠিক বিচারবুদ্ধির অভাব রয়েছে, ৫৫ শতাংশ প্রশ্ন তুলেছেন তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও, ২০২৪ সালের শেষদিকের তুলনায় এটি ৭ শতাংশ বেশি।
কেবল ট্রাম্পই নন, তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যাপারেও ভোটারদের অনাস্থা প্রকট। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি আস্থা দেখা যাচ্ছে ৪৪ শতাংশের, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাজে সন্তুষ্ট মাত্র ৪১ শতাংশ।