হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করতে নতুন করে পরিকল্পনা নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। বার্তা সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, হরমুজে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে নতুন সামরিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে পেন্টাগন। এ নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সম্প্রতি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার পরপর হামলার এসব পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে।
প্রতিবেদনে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে, পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের নৌ ক্ষমতা ও প্রণালিতে তাদের আধিপত্য খর্ব করতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা ‘ডায়নামিক টার্গেটিং’ কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো তেহরানের সেসব সরঞ্জাম ধ্বংস করা, যা দিয়ে তারা এই আন্তর্জাতিক জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। এর মধ্যে একটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের আশপাশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা আছে।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কেউ মাইন পাতলে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের ‘গুলি করে হত্যা করবে।’
পরিকল্পিত এই সামরিক অভিযানের তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইরানের দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোট, মাইন স্থাপনকারী জাহাজ এবং বিভিন্ন সমরাস্ত্র। তেহরান বর্তমানে এই সম্পদগুলো ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। কারণ গত ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সমুদ্রপথে এই অচলাবস্থা কাটেনি বলেই নতুন করে হামলার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। ইতিপূর্বে মার্কিন বাহিনী ইরানের মূল ভূখ-ের অভ্যন্তরে বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেকটা অক্ষত রয়েছে। তার মধ্যে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা মিসাইল এবং অসংখ্য ছোট ছোট বোট মার্কিন জাহাজের জন্য বড় হুমকি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে জাহাজ চলাচলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঊর্ধ্বতন এক মধ্যস্থতাকারীসহ সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে এই জলপথ অবিলম্বে উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা না যাচ্ছে, ততক্ষণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি নিতে চাইবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধান না এলে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ দ্বৈত-ব্যবহারের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন।