মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন খাইরুল মানাজিল মসজিদ

ভারতে মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন খাইরুল মানাজিল মসজিদ। মুঘল সম্রাট আকবরের ধাত্রী-জননী মহাম আঙ্গা কর্র্তৃক ১৫৬১ সালে মসজিদটি নির্মিত হয়। মহাম আঙ্গা একজন ক্ষমতাশালী রাজনীতিবিদও ছিলেন। খাইরুল মানাজিল মসজিদটির অবস্থান ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মথুরা রোডে, শেরশাহ গেট মসজিদের সন্নিকটে। ‘আরকিওলজিক্যাল সার্ভে অব দিল্লি’ এই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

১৫৬৪ সালে মুঘল সম্রাট আকবর হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ থেকে ফেরার সময় মসজিদের কাছে একজন আততায়ীর দ্বারা আক্রান্ত হন। মসজিদটি পরে মাদ্রাসা হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। তবে এখন মসজিদে তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো হয়। এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করা হয় না। সরকারি নিয়ম মোতাবেক মসজিদের ভেতরে খোলা থাকে। দর্শনার্থীদের জন্য খাইরুল-মানাজিল খোলা থাকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

মসজিদে ঢোকার গেট চোখে পড়ার মতোই। আরেকটি দৃশ্য চোখ এড়াতে পারে না, তা হলো একটি পুরনো কূপ। মসজিদের গেটটি লাল বেলে পাথরের তৈরি, যা মুঘল স্থাপত্যের নিদের্শন হলেও এর ভেতরের অবকাঠামো দিল্লি সালতানাত স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে। মূল মসজিদে মুঘল রীতির ছাপ রয়েছে।

অপূর্ব নির্মাণশৈলী ও অনিন্দ্য স্থাপত্য রীতি মসজিদকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ। স্থানীয় মুসলিমদের ভাষ্য, গরমের দিনেও নামাজের সময় মসজিদে খুব বেশি গরম লাগে না। তবে নামাজের জামাতে খুব বেশি মুসল্লি হয় না। আশপাশে সরকারি বাসভবন ও অফিস-আদালত হওয়ায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা কম। মূল মসজিদ ও বাইরের কম্পাউন্ডে নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে নিয়মিত জুমার নামাজও আদায় করা হয়।

আয়তক্ষেত্রাকার মসজিদের একটি বড় গম্বুজ ও তিনটি দরজা রয়েছে। একটি দরজা বড়, অন্য দুটি অপেক্ষাকৃত ছোট। যেকোনো সময় ভেতরের কম্পাউন্ডে দুই শতাধিক মুসল্লি তিনটি কাতারে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের দৈর্ঘ প্রায় ১০০ ফুট এবং প্রশস্ত প্রায় ২৫ ফুট। এর দেয়াল বেশ পুরু। মেহরাব দেখলে মনে হয় অনেক কারুকার্যশোভিত ছিল, যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। মসজিদের বাইরের অংশে সরু মিনার ও বুরুজ ছিল কি না, তা এখন খুব একটা বোঝা যায় না। মসজিদের মূল গেট থেকে ভেতরের দিকে গেলে দুইপাশে ভাঙা বিল্ডিং চোখে পরে। ইমাম সাহেবের ভাষ্যমতে, এখানে সম্ভবত মাদ্রাসার অবকাঠামো ছিল। মসজিদ থেকে গেটের মাঝে পানিবদ্ধ গোল স্থান দেখলে মনে হয় সেখানে ঝর্ণা ছিল। বৃষ্টি-রোদে বিবর্ণ খাইরুল-মানাজিল মসজিদ রঙ করা হলে নতুনের মতোই মনে হবে।

লেখক : ব্যাংকার ও গল্পকার