ঘুম না এলে যে দোয়া পড়বেন

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৭ এএম

রাতে বিছানায় শয়নের পর ঘুম না আসা খুবই কষ্টকর। এমন অনিদ্রার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও এমন একটি ঘটনা পাওয়া যায়। হজরত যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম ওহি লেখক। একবার তিনি অনিদ্রায় আক্রান্ত হন। রাতে ঠিকমতো ঘুম হতো না। বিষয়টি তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বলেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দেন।

দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মা গারাতিন নুজুমু, ওয়া হাদাআতিল উয়ুনু, ওয়া আনতা হাইয়ুন কাইয়ুমুন, লা তাখুযুকা সিনাতুও ওয়ালা নাউম। ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুমু, আহদি লাইলি ওয়া আনিম আইনি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তারাগুলো অস্তমিত হয়েছে এবং (সৃষ্টিকুলের) চোখগুলো শান্ত হয়েছে। আপনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। আপনাকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। হে চিরঞ্জীব! হে সবকিছুর ধারক! আমার রাতকে প্রশান্ত করুন এবং আমার চোখে ঘুম এনে দিন।

এই দোয়া পড়ার পর হজরত যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.)-এর অনিদ্রা দূর হয়ে যায়। ঘটনাটি ইমাম তাবারানি তার আল মুজামুল কাবিরে, ইবনুস সুন্নি তার আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও আরও বেশ কিছু হাদিসের কিতাবে এটি উল্লেখ আছে।

দোয়াটি খুবই অর্থবহ। এর শুরুতেই রাতের একটি দৃশ্য ফুটে ওঠে। তারাগুলো অস্তমিত হয়েছে। সবার চোখে ঘুম নেমে এসেছে। কিন্তু দোয়াকারীর চোখ তখনো জেগে আছে। তিনি সেই অবস্থায় এমন সত্তার কাছে আশ্রয় চাইছেন, যিনি কখনো ঘুমান না।

দোয়াটিতে আল্লাহর দুটি মহান নাম রয়েছে। আল-হাইয়ু এবং আল-কাইয়ুম। আল-হাইয়ু অর্থ চিরঞ্জীব। আল-কাইয়ুম অর্থ সবকিছুর ধারক ও নিয়ন্ত্রক। এই দুই নামকে ইসমে আজমও বলা হয়। বান্দা যখন এই দুই নাম ধরে আল্লাহকে ডাকে, তখন তিনি দোয়া কবুল করেন।

উল্লেখ্য, সনদের বিচারে কোনো কোনো মুহাদ্দিসের মতে এই হাদিসটি দুর্বল। তবে দোয়া হিসেবে এটি পড়া সম্পূর্ণ বৈধ এবং অত্যন্ত অর্থবহ।

লেখক : ইসলামি গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত