ম্যাচের সময় তখন ৩৪ সেকেন্ড। কিক অফের পর প্রথম আক্রমণ। ডান দিক থেকে মিরাজুল ইসলাম বক্সে ক্রস বাড়ালেন, তাতে খুব একটা গতি ছিল না, গোলকিপার সুজন পেরেইরাও ছিলেন বলের লাইনে; কিন্তু হঠাৎ তালগোল পাকিয়ে বসেন মিঠু চৌধুরী। সুজনের সামনে ছুটে গিয়ে ক্লিয়ার করার চেষ্টায় পারলেন না তিনি। বল তার পায়ে লেগে জালে জড়াল। এই গোলটি আগলে রেখেই শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় আবাহনী। টানা ষষ্ঠ জয়ে ১৩ ম্যাচে আবাহনীর সংগ্রহ ২৮ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে কিংসের পয়েন্টও ২৮। আজ ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে কিংস যদি ড্র বা জয় পায়, তবে তারা পুনরায় এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করবে। এই ম্যাচের আগে আবাহনী ও ফর্টিসÑউভয় দলেরই পয়েন্ট ছিল ২৫।
শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করার হাতছানিতে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মাঠে নেমে শুরুতে ওই সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যায় আবাহনী।
পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে নিতে আবাহনীর রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ফর্টিস এফসি। সেরা সুযোগটি তারা তৈরি করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪২তম মিনিটে বাইলাইনের একটু ওপর থেকে ডাওয়া তিসেরিংয়ের আড়াআড়ি ক্রসের নাগাল পাননি মিতুল মারমা, বল চলে যায় গোলমুখে ফাঁকা থাকা ইসা জালোর কাছে; কিন্তু অভাবনীয়ভাবে হেডে ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন গাম্বিয়ান এই মিডফিল্ডার।
পরের মিনিটে আবারও সুযোগ হাতছাড়া হয় ফর্টিসের। এবার বক্সের ভেতর থেকে নিজে শট না নিয়ে ইসা জালো বাড়ান বাম দিকে ফাঁকায় থাকা ওনিয়েকাচি ওকাফোরকে; কিন্তু নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ডের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলায় গতি কমে। আবাহনী গোল আগলে রাখার দিকে ছিল মনোযোগী। ৬৬তম মিনিটে ইসা জালোর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়াল পেরুলেও, আটকে দেন মিতুল।
৭৯তম মিনিটে কর্নার আটকাতে মিতুল লাফিয়ে উঠেছিলেন, সে সময় পেছন থেকে ইসা জালো শট নিতে পা চালালে মিতুলের পিঠে লাগে। মাঠে পড়ে যান তিনি। তবে চোট গুরুতর না হওয়ায় কিছুটা সময় চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যান মিতুল।
শেষ দিকে আরও চাপ বাড়ায় ফর্টিস। যোগ করা সময়ে ওকাফোরের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যাওয়ার পরপরই বাজে শেষের বাঁশি। দলের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দিতে মাঠে ঢুকে পড়েন আবাহনী সমর্থকেরা।
দিনের অন্য ম্যাচে, চমক দেখিয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। কিজিতো কাওয়ামের ৪৬তম মিনিটের গোলে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে হারিয়েছে তারা।
এই জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠেছে আরামবাগ।
১৪ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে রহমতগঞ্জ। তাদের শিরোপা লড়াইয়ে ফেরা আরও কঠিন হয়ে গেল।