ডিজেল সংকটে অচল ২৮ হাজার সেচপাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের মতো জ্বালানি সংকটে পড়েছে জামালপুরের মানুষ। তেলের জন্য ঘুরে লাইনে দাঁড়িয়ে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে পড়ছেন ডিজেলচালিত সেচপাম্পের কৃষকরা। হাজার হাজার হেক্টর ধানক্ষেতে সেচ দেওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চতা দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে। তপ্ত রোদে পানি পুরোপুরি শুকিয়ে ধানক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। একই অবস্থা জেলার সবজি চাষিদেরও। ডিজেল সংকটে অচল ২৮ হাজারেরও বেশি সেচপাম্প। এতে অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

সরেজমিনে জেলা শহরের বিভিন্ন পেট্রোলপাম্প ও ডিলার পয়েন্টসহ বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ঘুরে তেলের তীব্র সংকট ও কৃষকদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। শহরের পেট্রোলপাম্পগুলোয় দেখা যায়, শত শত কৃষকের দীর্ঘ লাইন। কেউ জার হাতে নিয়ে, কেউ আবার তেলের বোতল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মিলছে না কাক্সিক্ষত ডিজেল। অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন, যা কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অনেকেই ৯-১০ দিনে একবার সেচ দেন। সেই পানিও শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধানের চারা ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। ক্ষেতের পাশেই ডিজেলচালিত পাম্পটি যেন এখন এক প্রকার অচল। কারণ কোথাও মিলছে না ডিজেল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু জেলাজুড়ে ডিজেলের তীব্র সংকটে অধিকাংশ শ্যালো মেশিন বন্ধ হয়ে আছে। জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় ৫৩ হাজার ৩৬৮টি সেচপাম্প রয়েছে। এরমধ্যে ২৮ হাজার ১০৩টি সেচপাম্প ডিজেলচালিত। এই ডিজেলচালিত সেচপাম্প বা শ্যালো মেশিন দিয়ে ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শরীফ আলম খান বলেন, ‘প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষিজমি বিদ্যুৎচালিত সেচের আওতায় রয়েছে। এ সময় ধানক্ষেতে পর্যাপ্ত সেচ দরকার।’ এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জ্বালানি তদারকি কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেছেন, ‘ডিজেলের কোনো সংকট নেই। তাছাড়া কৃষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।