মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফ্রিজে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী রাখার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হয়েছে মাছ, মাংস ও সবজি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরকারি ফ্রিজে ব্যক্তিগত জিনিস রাখলে ‘কোনো দোষের’ না বলে মন্তব্য করেছেন। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এমন অভিযোগ স্বীকার করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি যন্ত্রপাতির মধ্যে চারটি ফ্রিজ রয়েছে। চার তলা নতুন ভবন ও দোতলা পুরনো ভবনের এই ফ্রিজগুলো ব্যবহার হয়। এর মধ্যে নতুন ভবনের নিচতলায় ইপিআই রুমে রয়েছে ডিপ ফ্রিজ। এতে রোগীদের জন্য টিটেনাস এবং বিড়াল, সাপ ও কুকুর কামড়ানোর ভ্যাকসিন রাখার কথা। চার তলায় রক্ষিত দুইটি ফ্রিজে যক্ষ্মা রোগের ওষুধ ও জরুরি রক্ত রাখার নিয়ম রয়েছে। পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্টোর রুমে একটি ফ্রিজ আছে। এ ফ্রিজে নারী-পুরুষ দুটি ওয়ার্ডে রোগীদের ব্যবহার ছাড়াও অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব ফ্রিজের মধ্যে স্টাফ নার্সদের কক্ষের পাশে স্টোর রুমে থাকা ফ্রিজে সরকারি ওষুধের সঙ্গে ব্যক্তিগত কাঁচা মাছ-মাংস, তৈরি খাবার, ডিম, টমেটো, মিষ্টি লাউ ইত্যাদি রাখা আছে। ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স বা অন্যদের রাখা এসব ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফ্রিজে রাখা নিয়ে আপত্তি ওঠে। গত রোববার দুপুরে এ ঘটনায় কর্তব্যরত নার্স ও অন্যরা কোনো সদুত্তর দেননি। এ বিষয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্স-সুপারভাইজার সূর্যতা রানী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ডিউটিতে শুধু আমি নই, আরও একজন আছেন। আপনি তার সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতালের স্টোরকিপার আরিফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে সরকারি চারটি ফ্রিজ রয়েছে। এসব ফ্রিজে টিটেনাস, অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন, ওষুধপথ্য ইত্যাদি ২-৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় না রাখলে গুণাগুণ নষ্ট হয়।
হাসপাতালে কর্মরত স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হামিদা ইয়াসমিন বলেন, হাসপাতালের সরকারি ফ্রিজে প্রয়োজনীয় ওষুধপথ্য ছাড়া অন্য কিছু রাখা যাবে না। ইনসুলিন, ভ্যাকসিন এমন ওষুধ রাখার ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংস, সবজি ইত্যাদি রাখা দ-নীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ ডা. সুমন সাহা বলেন, প্রথমত, মেডিসিন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাঁচা মাছ, মাংস বা সবজি একই ফ্রিজে রাখার কোনো সুযোগই নেই। মেডিসিন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি উপাদান, যা অবশ্যই আলাদা ও নির্ধারিত রেফ্রিজারেটরে রাখতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান ভূঁইয়া বলেন, হাসপাতালের ফ্রিজে ওষুধপথ্য থাকারই কথা। ফ্রিজে ওষুধ আছে কি না তা দেখতে হবে। তবে, সরকারি ফ্রিজে ব্যক্তিগত কোনো জিনিস রাখার নিয়ম নেই।
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালের ফ্রিজে যদি অন্য কোনো ওষুধ সংরক্ষিত না থাকে, তাহলে সেখানে খাদ্যদ্রব্য রাখা সমস্যার কিছু না। এমনকি ইনটেক ওষুধ থাকলেও সেটি বড় ধরনের সমস্যা নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।