প্রথম ইউনিটে পুনরায় উৎপাদন শুরু

দুই দিন বন্ধ থাকার পর পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা থেকে প্রথম ইউনিটের মাধ্যমে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। দৈনিক ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা লাগছে। কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরুর বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।

প্রথম ইউনিটে কয়লার সঙ্গে পাথর আসার কারণে গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টা ২ মিনিটে বিদুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পুনরায় উৎপাদনে আসায় পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন কিংবা লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে কয়লা মজুদ রয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে দৈনিক কয়লা সরবরাহ করা হয় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সরবরাহকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার হলেও ৬০-৬৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হতো।

২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আশা করছি আগামী মে মাসের মাঝামাঝি কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরবে। এখান দৈনিক ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট চালু রেখে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। এ পর্যন্ত তিনটি ইউনিট একই সঙ্গে কখনই চালানো সম্ভব হয়নি।

বড়পুকুরিয়া ৫২৫ কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,  প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত ৫৫-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড সরবরাহ করা হয়েছে। ইউনিট চালু হওয়ায় এ অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটা কমবে।

একটি সূত্র জানায়, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এক ইউনিটেরই ইন্সট্রাকটর কম্পিউটার রুমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, আইডি ফ্যান নষ্ট, কম্পিউটার রুম, যান্ত্রিক রুম, রিলে রুম, ব্যাটারি চার্জিং রুম, টারবাইন ডিসিএস এবং কম্পিউটার মনিটর অপারেটিং সিস্টেমেও ত্রুটি রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে এসব চালানোর ফলে বারবার এ ইউনিটটি বন্ধ হচ্ছে।