চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা আজ। দেশের খ্যাতিমান বলীরা (কুস্তিগীর) বিকেলে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবেন লালদীঘি মাঠে তৈরি কুস্তির রিং-এ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রাম এসেছেন শতাধিক বলী। এদিকে বলীখেলাকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার থেকে জমে উঠেছে তিন দিনের বৈশাখী মেলা।
দেশের যুবকদের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে চট্টগ্রামের বদরপাতির ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে বলীখেলার সূচনা করলেও কালের বিবর্তনে এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এবার বসছে বলীখেলার ১১৭তম আসর। প্রতি বছর ১২ বৈশাখ এ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বলীখেলার জন্য লালদীঘি মাঠে ‘কুস্তির রিং’ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন বলীরা রেজিস্ট্রেশন করছেন।’ এবারে প্রায় ১২০ জন বলী অংশ নেবেন বলে তিনি জানান। জব্বারের বলীখেলার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলাও শতাধিক বছর ধরে চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিজেদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামে আসেন।
জানা গেছে, অন্যবারের মতো এবারও মোবাইল কোম্পানি বাংলালিংক বলীখেলার স্পন্সর করছে। খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপকে কোম্পানির পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কারে সম্মানিত করা হবে। গত বছর আবদুল জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কুমিল্লার বলী ‘বাঘা শরীফ’। রানারআপ হয়েছিলেন কুমিল্লার রাশেদ বলী। তারা দু’জন এবারও বলীখেলায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। আজ বিকেলে বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।