​লালমনিরহাটে রেলওয়ের সংযোগ সড়ক বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক থেকে জেলা শহরের বিএনপি কলোনিতে প্রবেশের প্রধান সংযোগ পথটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার হাজারো মানুষ।

​শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেল লাইনের পাত ব্যবহার করে স্থায়ীভাবে সড়কটি সিল করে দেয়। ফলে কলোনি থেকে মডেল মসজিদ, জেলা আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে বাসিন্দাদের এখন প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

​স্থানীয়রা জানান, ২০০১ সালে লালমনিরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে রেলওয়ের জমিতে এই কলোনি গড়ে ওঠে। গত ২৫ বছর ধরে বাসিন্দারা শিশু পার্কের পশ্চিম পাশের এই রাস্তাটি যাতায়াতের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।

​রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় কলোনিবাসীর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সরকারি শিশু পরিবারের শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দা শফিয়ার রহমান দেশ রুপান্তরকে বলেন, আমরা পুরো রাস্তাটি খোলা না রেখে অন্তত একটি রিকশা বা ভ্যান চলার মতো জায়গা রাখার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। 

​আরেক বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, হঠাৎ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় অসুস্থ রোগী এবং বয়স্কদের নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। এক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাওয়া আমাদের জন্য অনেক কষ্টসাধ্য।

​সড়কটি সিল করার সময় উপস্থিত লালমনিরহাট রেলওয়ের এসএসএই (ওয়ার্কার্স) জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তারা পরিত্যক্ত রেললাইন ব্যবহার করে পথটি বন্ধ করছেন। জনদাবির মুখে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। এসময় তিনি দাবি করেন, এই পথটি এক সময় বন্ধই ছিল।

বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের জনচলাচলের পথটি এভাবে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের যাতায়াতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মানবিক বিবেচনায় সড়কটি পুনরায় উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।

​এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তসলিম আহমদ খানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।