ফের উত্তপ্ত মণিপুর গুলিতে ৩ মৃত্যু

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাতিগত সহিংসতা। গত শুক্রবার গভীর রাতে রাজ্যের উখরুল জেলার মুল্লাম গ্রামে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলিতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। মণিপুর পুলিশ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ৭ এপ্রিল সর্বশেষ সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন; গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২ জনেরও বেশি। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, উখরুল জেলায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি চলে। এতে তিনজন ঘটনাস্থলেই গুলবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তবে নিহতরা কোন সম্প্রদায়ের, তা এখনো স্পষ্ট করেনি প্রশাসন। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো এড়াতে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে চিরুনি অভিযান চলছে। প্রায় তিন বছর ধরে মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই এবং প্রধানত খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ ভূমি ও সরকারি চাকরিতে আধিপত্য নিয়ে প্রতিযোগিতা। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য স্থানীয় নেতারা এই জাতিগত বিভাজন আরও উসকে দিচ্ছেন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সহিংসতায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় বলে সরকারি তথ্য জানায়। কিছুটা শান্ত হলেও চলতি মাসের শুরুতে আবার সহিংসতা বাড়ে। একটি হামলায় দুই শিশুসহ চারজন নিহত হন এবং পরে মেইতেই সম্প্রদায়ের একদল মানুষ একটি আধাসামরিক ক্যাম্পে হামলা চালায়।

সাম্প্রতিক এ সহিংসতা তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধেরই নতুন অধ্যায়। এ সংঘাত রাজ্যটিকে ল-ভ- করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন চরম বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বাস করছে। দীর্ঘ এ লড়াই বন্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত তিন বছরের মধ্যে রাজ্যটিতে এক বছর কেন্দ্রীয় শাসন জারি ছিল। মণিপুরে বর্তমানে মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলটি তাদের মুখ্যমন্ত্রীও পরিবর্তন করেছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপই সংঘাত মেটাতে পারেনি। রাজ্যটিতে শত শত বছর ধরে পাশাপাশি বসবাস করা দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘুচিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ বিভাজন আরও গভীর হয়েছে। সরকারি বাহিনী এখন দুই পক্ষের মধ্যকার বাফার জোন বা মধ্যবর্তী এলাকা পাহারা দিচ্ছে। অন্যদিকে দুই সম্প্রদায়ের তরুণ থেকে বৃদ্ধসবাই অস্ত্র হাতে নিজেদের এলাকা পাহারা দিচ্ছেন। বর্তমানে মণিপুরে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৫০টির বেশি কোম্পানি মোতায়েন রয়েছে। এর ফলে রাজ্যটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সামরিকায়িত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।