ব্রিগেডিয়ার জে. ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ
অ্যাডভাইজার স্পেশালিস্ট মেডিসিন (এন্ডোক্রাইনোলজি),
সিএমএইচ, ঢাকা।
হজের সময় মৃত্যু ও স্বাস্থ্য জটিলতার অন্যতম প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। বদলে যাওয়া আবহাওয়া, ভৌগোলিক পরিবেশ, যাপিত জীবন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হজের সময় এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষত যারা ইনসুলিন নিয়ে রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছেন তাদের জন্য হজের সময় যথেষ্ট সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
তেতিয়ে ওঠা সূর্যের উত্তাপে পথ হাঁটা, দীর্ঘক্ষণ কাক্সিক্ষত যানবাহনের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা, খাদ্য গ্রহণে বিলম্ব হওয়া, যথাসময়ে ইনসুলিন নেওয়া ও সংরক্ষণের সমস্যাসহ নানা কারণে এ সময় গ্লুকোজের মাত্রা এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমনকি ভাষাগত সমস্যা জরুরি চিকিৎসা নিতে বিলম্ব তৈরি করে।
অনেক ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন, যারা ঝুঁকি ছাড়াই হজের সব কর্ম সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন। যাদের ঝুঁকি কম :
তিন মাসের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটি জানার জন্য একটি পরীক্ষা করা হয়। এটাকে বলে এইচবিএওয়ানসি। এর মাত্রা যদি সাতের নিচে থাকে। যাদের ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ের ট্যাবলেট খেয়ে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
মাঝারি ধরনের ঝুঁকি
এইচবিএওয়ানসি ৮.৫-এর নিচে
কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ কিডনি দিয়ে পানি এবং চিনি বের করে দেয়, এ ধরনের ওষুধ সেবনকারী। এগুলো অত্যধিক গরমের সময় পানিশূন্যতা উসকে দিতে পারে।
যারা বেজাল ইনসুলিন গ্রহণ করছেন।
ডায়াবেটিসের এমন ওষুধ যেগুলো ইনসুলিন নির্গত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে অথবা নতুন ধরনের সালফোনাইল ইউরিয়া গ্রুপের ওষুধ।
তীব্র ঝুঁকি
অনিয়ন্ত্রিত টাইপ-১ ডায়াবেটিস
টাইপ-২ ডায়াবেটিসে যারা দুই ধরনের ইনসুলিন নিচ্ছেন অথবা পাম্প ব্যবহার করছেন, সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, নিয়মিত চিনির মাত্রার নিয়ন্ত্রণহীনতা, গর্ভবতী মা,
ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিসের ইতিহাস,
ডায়াবেটিসের অতি তীব্র ঝুঁকির ভেতরে যারা অবস্থান করছেন, তারা হলেন
যারা ঘন ঘন হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত, হাইপোগ্লাইসেমিয়া লক্ষণ সম্পর্কে অনুভূতিহীনতা, ডায়াবেটিসের সঙ্গে স্টেজ ৩, ৪, ৫ কিডনি ফেইলার,
ক্ষুদ্র কিংবা বড় রক্তনালির অন্যান্য জটিলতা, অস্থিতিশীল করোনারি ধমনি সংক্রান্ত হৃদরোগ, বয়োবৃদ্ধ যাদের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, যাদের হাঁটার জন্য অন্যের সাহায্য নিতে হয়, হার্ট ফেইলিওর, সক্রিয় পায়ের ক্ষত বা রোগ।
করণীয়
হজে যাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন।
ডায়াবেটিস সংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতা থাকলে চিকিৎসা নিন। পায়ে ক্ষত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইনসুলিন, ইনসুলিন পেন, সিরিঞ্জ অথবা সুই এগুলো নেওয়ার জন্য ছোট ব্যাগ বানিয়ে নিন।
ইনসুলিন সংরক্ষণের জন্য ঠা-া প্যাকের ব্যবস্থা করুন।
নিয়মিত ডায়াবেটিস পরখ করার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নিন। এগুলো অত্যধিক তাপে নষ্ট হয়ে যায়। সে জন্য ব্যবস্থা নিন।
ওষুধের যাতে ঘাটতি না পড়ে সে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ নিন।
ব্যবস্থাপত্র সঙ্গে রাখুন। চিকিৎসককে বলে ওষুধের জেনেরিক নাম লিখে নিন।
ডায়াবেটিসের জন্য ইমারজেন্সি কিট সঙ্গে নিন। হাতের লাগেজে শর্করাসমৃদ্ধ
খাবার রাখুন।
হাঁটার জন্য জুতসই জুতা সঙ্গে নিন।
ইনসুলিন সংরক্ষণ
হজে এবং যাত্রাকালীন সময়ে ইনসুলিন সংরক্ষণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মূল লাগেজে রাখলে ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সে জন্য হাতের লাগেজে আপনার ইনসুলিন রাখুন। বিমানে উঠে এটি বিমানবালাকে দিয়ে দিন। যাতে তিনি সংরক্ষণ করতে পারেন। সৌদি আরবে গিয়ে এটি
ফ্রিজে রাখুন।
যখন বাইরে বের হবেন তখন একটা বিশেষ ধরনের ঠা-া ওয়ালেটের ভেতরে রাখুন। জেদ্দা থেকে মক্কা বা মদিনায় যাওয়ার সময় খেয়াল রাখুন এগুলো যাতে রোদের সংস্পর্শে না আসে। এমনকি রক্ত পরখ করার স্ট্রিপগুলো যাতে সরাসরি রোদের সংস্পর্শে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখুন।