ফুটবলে যারা তারকাখ্যাতি পেয়েছেন, আবাহনী কিংবা মোহামেডানে খেলেননি এমন খুব কম ফুটবলারের দেখা মিলবে। আমিনুল হকের কথাই ধরুন। ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল আবাহনীর গোলপোস্ট সামলে। বড় একটা সময় মুক্তিযোদ্ধায় কাটানোর পর তিনি পরিণত সময়ে খেলেছেন মোহামেডানের হয়ে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এই দুই ক্লাবকে স্বরূপে ফেরাতে তাই উদ্যোগী হয়েছেন আমিনুল। কথাকে কাজে রূপ দিতে শনিবার উপস্থিত হলেন আবাহনী ক্লাবে, যে ক্লাবটি চব্বিশের ৫ আগস্ট পরিণত হয়েছিল ধ্বংসযজ্ঞে।
শেখ হাসিনার ওপর ক্ষোভ গিয়ে পড়ে তার ভাইয়ের হাতে গড়া আবাহনী ক্লাবে। জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর হয়েছে, যে ক্ষত হয়তো সময়ে সেরে যাবে। তবে লুটেরাদের লুটে নেওয়া পাঁচ দশকে জেতা অসংখ্য ট্রফি তো আর ফেরানো যায়নি। তাতে যে ক্ষতি সৃষ্টি হয়েছে, সেটা সারবে কী করে? সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে আবাহনী কেবল খেলাধুলার ক্লাব হয়নি বলেই এখানে চলেছে ধ্বংসযজ্ঞ। তাই আমিনুল চান স্পোর্টিং ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে।
আমিনুল আসবেন বলেই আবাহনীর আঙিনায় ভরে উঠেছিল নানা অঙ্গনের তারকায়। ফুটবলের শেখ মোহাম্মদ আসলাম, শেখ আশরাফ আলী, ইকবাল হোসেন, আবদুল গাফফার, সম্রাট হোসেন এমিলি, আলমগীর হোসেন, মামুনুল ইসলামরা যেমন ছিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এবং একসময় আবাহনীতে নিয়মিত খেলা তামিম ইকবাল, হান্নান সরকারদেরও দেখা গেছে। অনেকদিন পর প্রিয় ক্লাবে উপস্থিত হয়ে যেন হাঁফ ছাড়তে পেরেছেন অনেক ক্রীড়া সংগঠক ও সমর্থক।
আমিনুল যেন তাদেরই দিতে চাইলেন অভয়, ‘আমি আবাহনীতে ৯৯-এ খেলেছিলাম এবং দীর্ঘদিন ফুটবল খেলেছি। এই দীর্ঘ পথ চলায় মোহামেডান এবং আবাহনীতে খেলেছি। বাংলাদেশের ফুটবল ঐতিহ্য মোহামেডান ও আবাহনীকে কেন্দ্র করে। সেই ঐতিহ্য যাতে কখনোই কোনো রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে বিনষ্ট না হয়, সে দিকে আমাদের সবার লক্ষ রাখতে হবে। ইতিমধ্যে আমি এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বিগত সময়ে কী হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। সামনে এগিয়ে যেতে চাই। চাই আবাহনী ক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হোক। ক্লাব ম্যানেজমেন্ট নতুনভাবে সাজিয়ে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্য খেলাগুলোতে আবাহনী যাতে বিগত সময়ের মতো অংশ নিতে পারে সেই প্রত্যাশা করি। আমার পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মকভাবে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। কারণ ক্লাব যদি বেঁচে থাকে তাহলে আমাদের খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে।’
আবাহনীর ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ থমকে গিয়েছিল চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর। কয়েকশ কোটি টাকার অবকাঠামো ব্যবহারযোগ্য করা যাচ্ছে না অর্থাভাবে এবং ভয়ে কর্তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায়। আমিনুল আবাহনীর কর্তাদের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে আনতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে দেশের সব ক্লাবের আর্থিক সংকট কাটাতে কাজ করার কথা বলেছেন, কীভাবে ক্লাবগুলোকে সহযোগিতা করতে পারি, সেটা নির্ধারণ করতে আমি বড় ক্লাবগুলো পরিদর্শন শুরু করেছি আবাহনী ক্লাবের মধ্য দিয়ে। আমাদের ক্লাবগুলোর যে নিজস্ব সম্পদ রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগিয়ে যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
অতীতেও দেখা গেছে, যখনই আবাহনী দুঃসময়ের মুখে পড়ে, তখনই ঘুরে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে ফের আবাহনীতে উপস্থিত দুঃসময়। আগামীতে যাতে এমন দিন দেখতে না হয়, তাই আমিনুলের চাওয়া ক্লাবগুলো হোক রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।