চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)। কাছাকাছি পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথাও বলেছিলেন। এরপরই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত চিহ্ন দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ের একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে ওই মরদেহ বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন।
বুলেট বৈরাগী পরিবার নিয়ে কুমিল্লা শহরের পানপট্টি এলাকায় থাকতেন। তার বাবার নাম সুশীল বৈরাগী। তিনি ঢাকার কাস্টমস, ভ্যাট ও এক্সসাইজ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বুলেট গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পরিবারের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয় রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে। ওই সময় তিনি কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর তার সঙ্গে আর পরিবারের যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পুলিশ জানায়, মরদেহে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মুখমণ্ডলে রক্তের দাগ রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।