শুধু আইন করে নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয় : আইনমন্ত্রী

শুধু আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষের সম্পৃক্ততাও বাড়াতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজক মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এবং নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, যথেচ্ছ আটক ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক জোট ওএমসিটি।

আইন ও বিচারমন্ত্রী বলেন, ‘নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূল করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আমাদের এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমান গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যেন মানুষ বুঝতে পারে যে, নির্যাতন একটি অমানবিক কাজ, এটি অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবেই আমাদের ভালো আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে।’ 

অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের সংবিধান নিজেই শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার বানানো যাবে না। সাংবিধানিক এই বিধান মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী সম্মেলনের নীতিগুলোকে প্রতিফলিত করে। এটি সরাসরি একটি নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্র ও সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আর কোনো হেফাজতে মৃত্যু চাই না, আর কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা চাই না, কোনো প্রকার নির্যাতন দেখতে চাই না। আমরা কোনো দায়মুক্তি চাই না।’ ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পালা বদলের পর থেকে গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং হেফাজতে নির্যাতনও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

তবে সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।