ভুট্টা চাষে কৃষক চায় সহযোগিতা

কম খরচে বেশি লাভ ও কম সময়ে ফলন পাওয়ায় জয়পুরহাটে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ভুট্টাতে রোগবালাই কম হলেও অনেক জমিতে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে ভুট্টা তোলা। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান না তারা। আর জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের সহযোগিতা দেওয়া হয়।

সরেজমিন জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় প্রায় ৮ হাজার পোলট্রির খামার, মৎস্য ও বেকারির খাদ্য প্রক্রিয়ার জন্য ভুট্টার বর্তমান বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ জন্য লাভের আশায় এই চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা। এ বছর ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। এ থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন। ভুট্টা চাষে কীটনাশক যেমন কম লাগে, তেমন রোগবালাই অনেক কম। কিন্তু এবার অনেক জমিতে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। ভুট্টা খাদ্য প্রক্রিয়া ছাড়াও জ¦ালানি হিসেবে ভুট্টাগাছ ও ছোবড়া বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় হয় কৃষকদের। বর্তমানে গাছে গাছে ভুট্টার হলুদ দানা আসতে শুরু করেছে। কৃষকরা জানায়, এবার প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এক বিঘাতে ৩৫ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বিক্রিও হয় ১ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত। সেই হিসেবে বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ কৃষি বিভাগ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা বা পরামর্শ পান না।

পালিগ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। অনেক লাভজনক ফসল, কিন্তু আমার জমিতে ভুট্টার মোচার আগায় পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের কেউ কোনো পরামর্শ দিচ্ছে না।

একই গ্রামের সোহাগ হোসেন জানান, এবার দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। তবে চিন্তায় আছি ভুট্টার মোচায় পোকা লেগেছে। কৃষি বিভাগ যদি জানাতো আমাদের কখন কী ওষুধ দিতে হবে, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো। এবার মনে হচ্ছে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছি। সুক্তাহার গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, বিঘাপ্রতি জমিতে ৪০ থেকে ৫০ মণের মতো ফলন হয়। এবারও আশা করছি, ভালো ফলন হবে, তবে দাম যদি ভালো থাকে তাহলে লাভ হবে। ফসলে রোগবালাই দেখা দিলে আমরা নিজেরাই কিটনাশক দিয়ে রোগ দূর করার চেষ্টা করছি। কৃষি অফিস সহযোগিতা করলে আমাদের উপকার হতো, ফলন ভালো হতো।

পাইকরতলী গ্রামের জহুরুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকায় অনেকেই ভুট্টা চাষ করেছে। ভুট্টা অনেক লাভজনক ফসল। ভুট্টা বিক্রি করে লাভ হয়। এ ছাড়া ভুট্টা গাছ ও ছোবড়া জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আবার বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় হয়। তবে ভুট্টা বিক্রি করতে আমাদের অনেক ভোগান্তি শিকার হতে হয়। স্থায়ী কোনো বাজার নেই। এ জন্য ভালো দাম আমরা পাই না। সরকার থেকে আমাদের স্থায়ী হাট বা বাজারের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আমরা আরও ভুট্টা চাষে আগ্রহী হতাম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম জানান, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো চাষে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করি। প্রতি বিঘাতে ৪০ মণের ওপরে ফলনের আশা করা যাচ্ছে, বাজারে ভালো দামও আছে। জয়পুরহাটে অনেক মুরগির খামার, মাছচাষি ও বেকারি থাকায় ভুট্টার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সঠিক জাত নির্বাচনে সহযোগিতা দিচ্ছি।